জুলাই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের পাশে ছিল কলকাতার ছাত্র-জনতা

চব্বিশের বাংলাদেশের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান গোটা দক্ষিণ এশিয়া-সহ বিশ্বে ঝড় তুলেছিল। সেদিনের সেই রক্তিম ঝড়ে উদ্বেলিত হয়েছিল কলকাতার ছাত্রযুবরাও। মিছিল নগরী কলকাতায় লাল পতাকা ঝড় তুলেছিল বাংলাদেশের ছাত্রজনতার প্রতি সংহতি জ্ঞাপনে। চব্বিশের জুলাইয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক কমিউনিস্ট ধারার বহু ছাত্র সংগঠন একসঙ্গে মার্চ করেছিল কলকাতার পার্ক সার্কাসে অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের কার্যালয়ে।
আমরা ৫ আগস্ট পার করে এলাম আবারও। এর মধ্যে পার হয়ে গেল ২ বছর। মাঝে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা আর ভাগীরথীর বুকে অনেক জল প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশেও জারি থেকেছে সংঘর্ষ ও নির্মাণ একইসঙ্গে। বাংলাদেশ পেরেছে ওয়াহাবি অপশক্তি ও উগ্রবাদী জামায়াতে ইসলামীকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রতিহত করে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে।
যদিও চব্বিশের ৫ আগস্টে মোদির মদতপুষ্ট আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট রেজিমকে উচ্ছেদ করা সম্ভব হলেও সাম্য, মৈত্রী, সহাবস্থান ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্রজনতা গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় সামনে তুলে ধরেছিল, সেই স্বপ্ন অনেকটাই অধরা এখনও অবধি।
কিন্তু চব্বিশের জুলাই-আগস্ট প্রমাণ করেছে ছাত্রজনতা ও মেহনতি গণমানুষের ঐক্য ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই স্বৈরাচারী-ফ্যাসিস্ট রেজিমের পরিবর্তন সংগঠিত করতে পারে। আর তাই চব্বিশের পরেও আমরা নেপালে একই ছবি দেখেছি। এমনকী ভারতে চলমান ছাত্রজনতার বিদ্রোহ বর্তমানে সম্পূর্ণ বিজয় না পেলেও, তা একদিন বিজয়ের সদর দরজা যে অতিক্রম করবেই; দিল্লি থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে পাটনা, পাটনা থেকে এলাহাবাদ, এলাহাবাদ থেকে জয়পুর, জয়পুর থেকে মুম্বইয়ের দিকে তাকালেই এটা বোঝা যায়।
চব্বিশের বাংলাদেশের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান গোটা দক্ষিণ এশিয়া-সহ বিশ্বে ঝড় তুলেছিল। সেদিনের সেই রক্তিম ঝড়ে উদ্বেলিত হয়েছিল কলকাতার ছাত্রযুবরাও। মিছিল নগরী কলকাতায় লাল পতাকা ঝড় তুলেছিল বাংলাদেশের ছাত্রজনতার প্রতি সংহতি জ্ঞাপনে। চব্বিশের জুলাইয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক কমিউনিস্ট ধারার বহু ছাত্র সংগঠন একসঙ্গে মার্চ করেছিল কলকাতার পার্ক সার্কাসে অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের কার্যালয়ে।
শুধু চব্বিশই নয়, ২০১৮ সালে ঢাকার রাস্তা মেরামত আন্দোলনেও সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতি কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ সংহতি জানিয়েছিলেন। আর চব্বিশে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের ঢেউ যখন তুঙ্গে উঠল, তখন নানা ব্যক্তি, নানা সংগঠন সেই আন্দোলনের সমর্থনে নানা কর্মসূচির আয়োজন করতে লাগলেন।
'নয়া চিন্তা' ও 'উপনিবেশ বিরোধী জ্ঞানচর্চা' নামক দুটি সংগঠন একত্রিত হয়ে কলকাতায় প্রথম জুলাই আন্দোলনের সমর্থনে সভা করেছিল কলকাতার যাদবপুরে। যাদবপুরের সেই পথসভার উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমি অতনু সিংহ, আমাদের সহযোদ্ধা ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নজরুল আহমেদ, তরুণ সমাজকর্মী অত্রি ভট্টাচার্য এবং লেখক, গবেষক ও সমাজকর্মী বিশ্বেন্দু নন্দ। যাদবপুরের সভা থেকে আমরা বাংলাদেশের ছাত্রযুবদের উদ্দেশ্য করে হাসিনাকে উৎখাত করার আহ্বান জানাই।
পাশাপাশি হাসিনার মেন্টর মোদি-শাহকে দিল্লি থেকে উৎখাত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ছাত্রজনতার আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিতে আহ্বান জানিয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের ছাত্রযুবদের। আমরা তখন রাত জেগে, গোটা দিন দৌড়াদৌড়ি করে বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনমত গঠনের কাজ করতাম। আমাদের পাশাপাশি এই কাজে এগিয়ে এসেছিলেন তথ্যচিত্র নির্মাতা ও লেখক সৌমিত্র দস্তিদার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী অর্ক ভাদুড়ি, সাংবাদিক অর্ক দেব প্রমুখ। সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমনও সরব হন আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে।
এছাড়া প্রবাসী ভারতীয় ও পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ কবি সৌম্য দাশগুপ্ত ও পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ আরেক কবি গৌতম চৌধুরী। সৌম্যদা আমেরিকা থেকেই জুলাই আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতার নাগরিক সমাজকে একত্রিত করার প্রয়াস চালাতেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয়, লেখালেখি ও বন্ধুতা সূত্রে পশ্চিমবঙ্গের যে ক'জন বাংলাদেশে নানা সময় কাটিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কবি মৃদুল দাশগুপ্ত, কবি সৌম্য দাশগুপ্ত ও কবি গৌতম চৌধুরী অগ্রগণ্য। এছাড়া আমিও সাংবাদিকতা ও সাহিত্যকর্ম সূত্রে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ২০১৮-২০ কালপর্ব অতিবাহিত করেছি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে সৌমিত্র দস্তিদারের।
তো যাই হোক, চব্বিশের জুলাইয়ে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, হৃদয় তাড়ুয়ারা শহিদ হওয়ার পরে ক্রমেই আওয়ামী শাসন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে থাকে কলকাতা-সহ তামাম পশ্চিমবঙ্গ। যাদবপুরে আমাদের সভার পরেই ছাত্র সংগঠন ডিএসও, পিডিএসএফ, আরএসএফ ও এআইএসএ একযোগে রাস্তায় নামে। রবীন্দ্রসদন থেকে মহামিছিল সংগঠিত হয় পার্ক সার্কাসের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরণিতে অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের কার্যালয়ের দিকে।
বলা ভালো, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জুলাই আন্দোলনে একপ্রকার সংহতি জ্ঞাপন করলেও রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে দিল্লি কর্তৃক রাজ্যে নিয়োজিত রাজ্যপালের নির্দেশ মেনে কলকাতা পুলিশ সেই মিছিলে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। গ্রেফতার করা হয় জুলাই আন্দোলনের সংহতিতে মিছিলে শামিল হওয়া কলকাতার অপ্রাতিষ্ঠানিক কমিউনিস্ট ধারার ছাত্রনেতাদের।
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী যে পুলিশি নিপীড়নের নির্দেশ দেননি তা স্পষ্ট হয় ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় অনুষ্ঠিত চব্বিশের সভায়। ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ বলেছিলেন, “এতগুলো ছাত্রছাত্রীর প্রাণ যাচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তো আর ভারত রাষ্ট্র চালাই না, আমরা একটি অঙ্গরাজ্য পরিচালনা করি, তাই বাংলাদেশের বিষয়ে অবস্থান নেওয়াটা একান্তভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। কিন্তু তারপরেও আমরা বলতে চাই, ওপার থেকে কেউ এপারে এসে আশ্রয় চাইলে আমরা এই বাংলায় তাঁদের আশ্রয় দিতে প্রস্তুত।”
মমতা বাংলাদেশের ছাত্রজনতাকে উদ্দেশ্য করেই এ কথা বলেছিলেন। যদিও তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় ভারতে। বিজেপি প্রশ্ন তোলে, কীভাবে মমতা এ কথা বলতে পারেন! আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ দল হিসেবে পরিচিত সিপিএম শুরু থেকেই জুলাই আন্দোলনকে বিজেপির কায়দায় জামায়াত ও আমেরিকার মদতপুষ্ট বলে চিহ্নিত করেছে, তাই মমতার ওই বক্তব্যের তারাও বিরোধিতা করে। এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের অনুগামী ছাত্র সংগঠন ডিএসও জুলাইয়ের শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসগুলিতে শহিদ বেদি স্থাপন করে। লাগাতার তারা তাদের সংগঠনের তরফে হাসিনাবিরোধী, আওয়ামীবিরোধী ও বাংলাদেশে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদবিরোধী মিছিল সংগঠিত করেছে কলকাতায়।
চব্বিশের জুলাইয়ে শুধুমাত্র যে কলকাতাতেই সংহতি জ্ঞাপনের মিছিল হয়েছে তা নয়, শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও প্রতিবাদ মিছিল করেছে লাগাতার। পশ্চিমবঙ্গের সংবেদনশীল গণতন্ত্রপ্রিয় বহু মানুষ জুলাই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গকে আবারও মিলিয়ে দিতে পেরেছিল চব্বিশের জুলাই।
আগস্ট, ২০২৪। আমরা আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ঠিক করি আমরা কলকাতায় জুলাই আন্দোলনের সমর্থনে গণকনভেনশন ও তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি নেব। ঠিক একই প্রস্তাব উঠে আসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তরফেও। তাঁদের পাশে দাঁড়ান সঙ্গীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকও। সেইমতো আমরা এগোতে থাকি। কিন্তু এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ছাত্রজনতা হাসিনা রেজিমের পতন ঘটায়। হাসিনা পালিয়ে আসেন ভারতে।
হাসিনার পতনের পরেই বিজেপি ও গোদি মিডিয়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও ভুয়া ন্যারেটিভ ছড়াতে শুরু করে ব্যাপকভাবে। তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলে বিজেপি। প্রচার করা হয়, তৃণমূলের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যোগ আছে। এই প্রচারকে আবার খণ্ডন করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিজেপির সুরে সুর মেলাতে থাকে। এর কিছুদিন পর মাজার ও ভাস্কর্য ভাঙার মতো ঘটনাকে উপজীব্য করে বাংলাদেশবিদ্বেষী প্রচারে বেগবান হয় গোদি মিডিয়া।
তৌহিদি জনতার নাম নিয়ে একদল মুসলিম জাতীয়তাবাদীরা যে কয়েকটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছিল, সেসবগুলিকে সামগ্রিক বাংলাদেশের ছবি হিসেবে প্রচার করে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে গড়ে ওঠা জুলাইয়ের গণঐক্যকে ভাঙতে তৎপর হয় গোদি মিডিয়া। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের মুখোমুখি হয়ে কবি ফরহাদ মজহার মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে সরব হলে, সেই ঘটনার একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে। বৃহৎ বঙ্গের ইতিহাসে প্রথম দেখা যায়, বাংলাদেশের কোনো কবির বয়ান ও সাক্ষাৎকার পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় দৈনিক বাংলা সংবাদপত্রগুলির প্রথম পাতায় লিড হিসেবে ছাপা হয়েছে।
অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য ও তত্ত্বতালাশ পশ্চিমবঙ্গের গণমানুষের কাছে তুলে ধরতে আমরা ‘প্রতিপক্ষ’ পত্রিকার গণঅভ্যুত্থান সংখ্যা প্রকাশ করি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। কলকাতায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় সেই গণঅভ্যুত্থান সংখ্যা। এদিকে জুলাই আন্দোলনের কিছু পরে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গব্যাপী শুরু হয় নাগরিক সমাজের আন্দোলন। সেই আন্দোলনের স্লোগান, বয়ান সবকিছুতেই ছাপ লক্ষ্য করা গিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে শুরু হওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের।
কলকাতার সেই আন্দোলনের নাম হয় ‘অভয়ার ন্যায়বিচারের আন্দোলন’। সেই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি ছিল ‘রাতদখল’। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রাতিষ্ঠানিক বা সংসদীয় বামেদের কাঁধে চেপে সেই আন্দোলনে ঢুকে পড়েছিল বিজেপি-আরএসএস। ধর্ষণ ও খুনের বিচারের দাবি পেছনে চলে যায়, সামনে চলে আসে পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখলে গেরুওয়া বাহিনীর নীল নকশা। পশ্চিমবঙ্গ দখল করার লক্ষ্যেই সেই আন্দোলনকে তারা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্ল্যাটফর্ম বানিয়ে ফেলে সুচারুভাবে। যার একাংশের পরিণতি হিসেবে আমরা দেখতে পাই ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ব্যাপক বিজয়। কিন্তু ইতিহাস তো থেমে থাকে না।
ফের এই ছাব্বিশেই ফের বাংলাদেশের ছাত্রজনতার মতো করে সংগঠিত জেন-জি। আবারও জুলাইয়ের আগমন ঘটল, এবার ভারতজুড়ে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা মন্ত্রীকে গদিচ্যুত করে ছেড়েছে। পাশাপাশি সেই আন্দোলন এখন মোদি-শাহ-সহ ভারতের গেরুয়া ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানোর আন্দোলনের চেহারা নিয়েছে। যার প্রেরণা বাংলাদেশের ছাত্রজনতা। বাংলাদেশের ছাত্রজনতার পাশে ছিল কলকাতা। এখন গোটা ভারতের জেন-জি বাংলাদেশের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানকে অনুসরণ করে ফের দক্ষিণ এশিয়ায় ইতিহাস নির্মাণে তৎপর।
--
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক, কলকাতা, ভারত।
ইমেইল- [email protected]



