ক্ষমতার ভরকেন্দ্র যাচ্ছে গ্লোবাল সাউথে: যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতার পথে বাংলাদেশ


ছবি: মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা
বাংলাদেশের সংসদের ভেতর থেকে পরিচালিত এই ককাস কার স্বার্থ দেখবে? এরা দেশের স্বার্থ দেখবে না, বরং এরা হচ্ছে গত ৯ ফেব্রুয়ারিতে হওয়া আমেরিকান অসম চুক্তির দেশীয় ‘প্রাতিষ্ঠানিক রক্ষাকবচ’। সংসদে বসে আমেরিকার হয়ে লবিং করা এবং সরকারের প্রতিটি নীতিনির্ধারণীতে মার্কিন এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়াই এ ধরনের ককাসের মূল কাজ।
ক্ষমতা, জ্ঞান ও পুঁজি কখনোই কোনো নির্দিষ্ট জাতি, রাষ্ট্র বা সভ্যতার জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়। ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র প্রতিনিয়ত দিক বদলায়। একসময় গোটা বিশ্বের জিডিপির এক বিশাল অংশের একক অংশীদার ছিল আমাদের এই ভারতবর্ষ। ইতিহাস অত্যন্ত নির্মমভাবে সাক্ষী দেয়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা দখল করে, তখন খোদ ব্রিটেনে শিল্প ব্যাংক ছিল হাতেগোনা কয়েকটি। অথচ কেবল বাংলার মাটি থেকে লুণ্ঠিত বিপুল সম্পদের ওপর ভর করেই মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্রিটেনে ২০টিরও বেশি নতুন শিল্প ব্যাংক গড়ে ওঠে এবং সেই পুঁজি দিয়েই ব্রিটেনের কথিত ‘শিল্পবিপ্লব’ সম্ভব হয়েছিল।
যে ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক দাপট নিয়ে একসময় অহংকার করে বলা হতো ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কখনও সূর্য অস্ত যায় না’, সেই ব্রিটেন আজ তার সকল জৌলুস হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে মূলত আমেরিকার তল্পিবাহক বা স্রেফ ‘ছোট ভাই’-তে পরিণত হয়েছে। আবার বিশ্ব মোড়লগিরি করা এই আমেরিকার ইতিহাসও বড় অদ্ভুত। ইউরোপের সমাজ থেকে বিতাড়িত ভাগ্যান্বেষী, দস্যু, খুনি আর অপরাধী প্রকৃতির মানুষদের মাধ্যমেই একসময় রেড ইন্ডিয়ানদের রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে গড়ে উঠেছিল আজকের আমেরিকা। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তারাই বিশ্বে একক মোড়লে পরিণত হয়। কিন্তু ইতিহাস যেমন কাউকে চিরস্থায়ী সিংহাসন দেয় না; আজকের দুনিয়ায় পাশ্চাত্যের সেই জৌলুস দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পশ্চিমা আধিপত্যকে খর্ব করে চীন-ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বয়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’ প্রবল পরাক্রমে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। জ্ঞান, সম্পদ আর সমরশক্তি আজ আটলান্টিক পাড় ছেড়ে প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমশ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
পরাশক্তি ও প্রবৃদ্ধির পূর্বমুখী বাঁক: ডেটা যা বলছে
ইতিহাসের অত্যন্ত সাধারণ নিয়ম হলো—অর্থনীতি যেখানে যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা ঠিক তাকেই অনুসরণ করে। জ্ঞান অর্জন বা উচ্চশিক্ষার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে মুখ করে থাকার দিন শেষ হয়ে আসছে। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবদান বা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হারের দিকে তাকালেই পশ্চিমা আধিপত্যের অবক্ষয়ের বাস্তব চিত্র উন্মোচিত হয়ে যায়।
বিশ্বের মোট প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকই আসছে গ্লোবাল সাউথের মাত্র দুটি দেশ থেকে—চীন ও ভারত। বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে একাই ২৬.৬ শতাংশ জোগান দিচ্ছে চীন। তারা আজ কেবল আর সস্তা খেলনা বা ইলেকট্রনিক্সের কারখানায় সীমাবদ্ধ নেই; মহাকাশ বিজ্ঞান, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও হাইপারসনিক অস্ত্রে তারা আমেরিকার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ১৭ শতাংশ অবদান নিয়ে বিশ্বের মহাকাশ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে উদীয়মান শক্তি হয়ে উঠেছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর ভারত।
চীনের বিকল্প কেবল পাশ্চাত্যে নয়, খোদ এশিয়াতেই গড়ে উঠেছে। বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ৩.৮% অবদান রাখা ইন্দোনেশিয়া খনিজসম্পদ লুণ্ঠন বন্ধ করতে কাঁচামাল হিসেবে ‘নিকেল’ রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। ফলস্বরূপ গোটা বিশ্ব বাধ্য হয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে ব্যাটারি ও প্রযুক্তির কারখানা গড়ছে, যা তাদের বিশ্ব ইলেকট্রিক গাড়ির সরবরাহ শৃঙ্খলের পরাশক্তিতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ১.৬% অবদান নিয়ে পশ্চিমা ভূ-রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে, এমনকি চীন ও আমেরিকার মধ্যে ‘বাঁশ কূটনীতি’ বজায় রেখে গ্লোবাল চিপ তৈরি ও উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের ল্যাবরেটরি বনে গেছে। একইসঙ্গে শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং উন্নত অবকাঠামো নিয়ে গ্লোবাল হাব হয়ে উঠছে মালয়েশিয়া।
এর বিপরীতে, একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আমেরিকার অবদান নেমে এসেছে মাত্র ৯.৯ শতাংশে, আর ইউরোপের অর্থনীতির প্রধান ইঞ্জিন জার্মানি আটকে আছে মাত্র ০.৯ শতাংশে। রাশিয়া, ব্রাজিল কিংবা সৌদি আরব নিজেদের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য করে ডলারের মনোপলি বা একচেটিয়া ক্ষমতা দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে।
পরিসংখ্যানে এটি স্পষ্ট—পশ্চিমা বিশ্ব আজ উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি থেকে ক্রমেই ভোক্তানির্ভর অর্থনীতিতে রূপ নিচ্ছে, আর সভ্যতার ভবিষ্যৎ রচিত হচ্ছে প্রাচ্যের এই গ্লোবাল সাউথে।
উল্টোপথে বাংলাদেশ এবং পরনির্ভরতার পথে যাত্রা
বিশ্ব যখন এমন বহুমাত্রিক যুগে প্রবেশ করছে, পুরনো আমেরিকান উপনিবেশগুলো যখন একে একে ভেঙে পড়ছে, ঠিক তখন স্বাধীন বাংলাদেশ সম্পূর্ণ আত্মঘাতী কায়দায় পাশ্চাত্যের ক্ষয়িষ্ণু মার্কিন শক্তির আষ্টেপৃষ্ঠে নিজেকে বেঁধে ফেলছে। সোভিয়েত পতনের পর একমুখী দুনিয়াতেও আমরা এতোটা নতি স্বীকার করিনি। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে, অতীতের সব ভারসাম্যপূর্ণ নীতি ও প্রথাকে পায়ে মাড়িয়ে আমরা পরনির্ভরতার পথ বেছে নিয়েছি।
এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যায় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম এক বাণিজ্য চুক্তির মধ্য দিয়ে। এর মাধ্যমে আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পকে একপ্রকার বিনাশর্তে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পশ্চিমাপন্থীদের দ্বারা গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সাধারণ মানুষ আশা করেছিল যে তারা এই অসম চুক্তি বাতিল করবে। কিন্তু পরিস্থিতি মোড় নেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে।
জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। সেই আয়োজনের ভেতর দিয়েই ঘোষণা করা হলো জাতীয় সংসদের সরকারি দল বিএনপির ৭ জন, বিরোধী দল জামায়াতের ২ জন এবং অভ্যুত্থানের শরিক এনসিপির ১ জন-এর আইনপ্রণেতাদের নিয়ে গঠিত ‘আমেরিকান ককাস’-এর আত্মপ্রকাশ। এটি একটি গুরুতর রাজনৈতিক বিপর্যয় ও অপরিনামদর্শিতার নিদর্শন।
‘আমেরিকান ককাস’ কী সার্বভৌমত্ব নিলামের ছক?
আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিভাষায় অন্য দেশের সংসদে এমন ‘ককাস’ তৈরির ধারণাটি অত্যন্ত বিরল। কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের সংসদে সাধারণত ‘ককাস’ বানাতে দেয় না। যুক্তরাজ্য, ভারত এমনকি অস্ট্রেলিয়ার সংসদে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বড়জোর ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ আছে। ভারতে ২০১৯ সালে এই ককাসের প্রস্তাব চরম অপমানে ছুড়ে ফেলা হয়। দুনিয়ার বুকে এতদিন এই ‘আমেরিকান ককাস’ শুধু ইসরায়েল, তাইওয়ান বা হাঙ্গেরির মতো তিনটি ভূখণ্ডেই ছিল, যার সাথে এখন বাংলাদেশের নাম জুড়ল।
ককাস কোনো সাধারণ সম্পর্ক উন্নয়নের ফোরাম নয়, এটি হলো অত্যন্ত আগ্রাসী একটি ‘প্রেসার গ্রুপ’। এদের মূল কাজ হলো মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে নিজ দেশ বা ভিনদেশের নীতি বদলানো। একটু খেয়াল করলেই ককাসের ধ্বংসাত্মক রূপ দেখা যাবে: ‘ইসরায়েল ককাস’ অনবরত মার্কিন পেন্টাগনকে চাপ দিয়ে আমেরিকার বিলিয়ন ডলার সামরিক বরাদ্দ নিশ্চিত করে এবং ইসরায়েলের গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর বোমা বর্ষণে সমর্থন জোগায়। এমনকি, ওবামা আমলের ইরান চুক্তি বাতিল করে যুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারাতেও এদের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ‘কংগ্রেসনাল ভেনিজুয়েলা ককাস’ নামক গ্রুপটি লবিং করে মার্কিন অবরোধ বসিয়ে ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি ধসিয়ে দেয় এবং নির্বাচিত সরকার উৎখাতের কলকাঠি নাড়ে।
বাংলাদেশের সংসদের ভেতর থেকে পরিচালিত এই ককাস কার স্বার্থ দেখবে? এরা দেশের স্বার্থ দেখবে না, বরং এরা হচ্ছে গত ৯ ফেব্রুয়ারিতে হওয়া আমেরিকান অসম চুক্তির দেশীয় ‘প্রাতিষ্ঠানিক রক্ষাকবচ’। সংসদে বসে আমেরিকার হয়ে লবিং করা এবং সরকারের প্রতিটি নীতিনির্ধারণীতে মার্কিন এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়াই এ ধরনের ককাসের মূল কাজ।
সিরিয়ার বীভৎস পরিণতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অন্ধত্ব
পুরোনো ধ্বসে পড়া এই আমেরিকান বলয়ে এমন পুরোপুরি ঢুকে যাওয়ার আগে আমরা কি একবারও ভেবেছি এর পরিণতি কী? আমাদের কাছে কি বিকল্প গবেষণার থিংকট্যাংক আছে? কম দামে পাওয়া চীনের বিপুল কারিগরি বা অবকাঠামো খাতের ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আমরা কি দিয়ে সামলাব, সেই ব্লু-প্রিন্ট কি ককাসের সদস্যরা বানিয়েছেন?
আমেরিকার মূল নজর আসলে বাংলাদেশের উন্নয়নে নয়; তাদের ভূ-রাজনৈতিক চোখ এই অঞ্চলে। চীনকে ঘেরাও করতে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যকে যদি ভাঙতে হয়, তবে সেন্টমার্টিনসহ বাংলাদেশকে মার্কিন বাহিনী তাদের প্রক্সিযুদ্ধের লজিস্টিক ভূমি বা বেজক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করবে। আর এমন আত্মঘাতী পদক্ষেপে আমরা যদি সায় দেই, তবে ৫ দশকের ঘামে-শ্রমে গড়া এই দেশের কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা এক নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
আমাদের সিরিয়ার দিকে তাকাতে হবে। সাম্রাজ্যবাদের খেলার দাবার ঘুঁটি হয়ে গোটা সিরিয়া আজ এক মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। যুদ্ধে দেশ ধ্বংসের সময় সিরিয়ার সব ধনিকশ্রেণী, পুঁজিপতি আর অভিজাত ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়াররা ঠিকই পড়শি তুরস্কে গিয়ে ব্যবসা আর আরামের জীবন গুছিয়ে নিয়েছে। অথচ সিরিয়ার কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জায়গা হয়েছে ধ্বংসস্তূপে, মৃত্যু আর কান্নায়। আজ আরাকান ভাঙার খেলায় আমেরিকার প্রক্সি ফ্রন্ট লাইন হলে বাংলাদেশের ভাগ্য সিরিয়ার মতোই নরকে পরিণত হবে। ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে যে মাত্রায় ইসলামি জঙ্গি এবং কট্টরপন্থীদের প্রকাশ্য মহড়া শুরু হয়েছে, তাতে গোটা রাষ্ট্র এমনিতেই থরথর করে কাঁপছে। এর ভেতর বৃহৎ মার্কিন সমরাস্ত্র এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ফ্রন্ট খোলা হলে দেশ তার অস্তিত্ব হারাবে। আমরা দেশটাকে সিঙ্গাপুর বা দক্ষিণ কোরিয়া বানানোর মিথ্যা মোড়কে স্রেফ ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র বানাচ্ছি।
একটি স্বাধীন সরকার কখনোই তার দেশের মানুষকে এমন ভয়ংকর আগুনের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া হতে হলে আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীন নীতি লাগে, বিদেশি শক্তির প্রভাব বলয়ে থেকে বা তাদের ককাস বানিয়ে তা অর্জন করা যায় না। সভ্যতা, অর্থনীতি এবং নতুন ক্ষমতার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ আজ গ্লোবাল সাউথের হাতে। উদীয়মান বিশ্বকাঠামোর ঠিক এই বাস্তব গ্লোবাল সাউথকে পাশ কাটিয়ে পুরনো ক্ষয়িষ্ণু মার্কিন শক্তির সাথে এই মাত্রায় আনুগত্যের গাঁটছড়া প্রকারান্তে গোটা অঞ্চলে রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে একাই করে ফেলার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
--
লেখক: সম্পাদক, ঢাকা পেপারস।
ইমেইল: [email protected]



