লোকসানের শঙ্কায় একুশের বইমেলায় অনীহা অনেকের

ছবি: উইকি
এবারের মেলার সময়সূচি নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মেলার একটি বড় অংশ পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে পড়ায় অনেক প্রকাশকই নাখোশ। তাদের মতে, রোজার সময় পাঠক সমাগম ও বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অমর একুশে বইমেলা দোরগোড়ায় কড়া নাড়লেও প্রকাশনা জগতে এখন উৎসবের বদলে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। কয়েক দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকাশকরা বলছেন, এবারের মেলা নিয়ে তাদের কোনো প্রস্তুতিই নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিপুল আর্থিক ক্ষতি এবং কাগজের চড়া দামের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন ছোট ও মাঝারি প্রকাশকরা।
একজন প্রকাশকের মতে, মেলায় দুটি স্টল নিতে নির্মাণ ব্যয়, কর্মী বেতন ও পরিবহন মিলিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়। এই বিনিয়োগ তুলতে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার বই বিক্রি করা প্রয়োজন। কিন্তু গত বছর অধিকাংশ প্রকাশকই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেননি। ফলে প্যাভিলিয়ন ও বড় স্টল নেওয়া প্রকাশকরাও লোকসান গুনে কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শত শত প্রকাশক সম্মিলিতভাবে জানিয়েছেন, তারা ঈদের ছুটির পর মেলা শুরু করার পক্ষে। তাদের যুক্তি, তখন শিক্ষার্থীরা ঢাকা ফিরবেন, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে এবং ছাপাখানার ব্যস্ততা কমলে মানসম্মত বই আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে অনেক কর্মী গ্রামে থাকায় এবং কাগজের উচ্চমূল্যের কারণে নতুন বই ছাপানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তবে প্রকাশকদের এই বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়েই মেলা আয়োজনে অনড়। প্রকাশকরা বলছেন, যাদের বিনিয়োগ, তাদের মতামতের তোয়াক্কা না করে একটি ‘দায়সারা’ মেলা করার তোড়জোড় চলছে। বড় প্রকাশকরা হয়তো কোনোমতে খরচ তুলতে পারবেন, কিন্তু ছোট ও মাঝারি প্রকাশকদের জন্য এবারের মেলা ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে বইমেলা
রীতি ভেঙে ১ ফেব্রুয়ারির বদলে অনেক দেরীতে শুরু হতে যাওয়া রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এখন চলছে খোঁড়াখুঁড়ি, দূর থেকেই ভেসে আসছে হাতুড়ি-পেরেকের ঠুকঠাক শব্দ। কেউ ফিতা দিয়ে জায়গা মাপছেন, কেউ ব্যস্ত স্টলের কাঠামো দাঁড় করাতে। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ সামনে রেখে এভাবেই দিনরাত প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রকাশকরা।
মেলাটি ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
এবারের মেলার সময়সূচি নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মেলার একটি বড় অংশ পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে পড়ায় অনেক প্রকাশকই নাখোশ। তাদের মতে, রোজার সময় পাঠক সমাগম ও বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তা সত্ত্বেও পাঠকদের নতুন বই উপহার দিতে স্টল সাজানোর কাজে কোনো কমতি রাখছেন না তারা। মেলা আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। এখন শুধু অপেক্ষা পাঠকদের পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হওয়ার।



