মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির তাণ্ডব
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যানথ্রপিকের তৈরি ক্লদ এআই-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বিশ্লেষণ এবং হামলার পূর্বাভাস তৈরি করা হচ্ছে।
মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত শুধু তিনটি দেশের যুদ্ধ নয়, বরং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির এক বলয় তৈরি করেছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার অস্ত্র থেকে শুরু করে নিউরাল কমান্ড—যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন সব প্রযুক্তি যা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমাকেও হার মানায়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমানের বহরে রয়েছে এফ-৩৫আই অ্যাডির ও এফ-২২ র্যাপ্টারের মতো পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার। এই বিমানগুলো ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করে গভীর অভিযান চালাতে সক্ষম।
তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে সস্তা কিন্তু মারাত্মক ড্রোন থেকে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ‘লুকাস’ নামের একটি ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা ইরানের শাহেদ-১৩৬-এর আদলে তৈরি এবং প্রতিটির দাম মাত্র ৩৫ হাজার ডলার।
এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যানথ্রপিকের তৈরি ক্লদ এআই-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বিশ্লেষণ এবং হামলার পূর্বাভাস তৈরি করা হচ্ছে। ইসরায়েলের ‘হাবসোরা’ নামের একটি এআই সিস্টেম রয়েছে, যা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করে।
যুদ্ধ প্রযুক্তির সবচেয়ে চমকপ্রদ সংযোজন হলো ‘নিউরাল ড্রোন’। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে তারা ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যেখানে একজন সেনা কমান্ডার শুধু মস্তিষ্কের সংকেত পাঠিয়েই ড্রোনের একটি সম্পূর্ণ ঝাঁক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
একই সঙ্গে চলছে সাইবার যুদ্ধ। ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সরকারি ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের জনপ্রিয় ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অ্যাপ ‘বাদেসাবা’ হ্যাক করে লাখ লাখ ব্যবহারকারীকে ‘এখনই হিসাব নেওয়ার সময়’ বার্তা পাঠানো হয়। আর পুরো এই অভিযানের মেরুদণ্ড হয়ে কাজ করেছে স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক, যা যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম যোগাযোগ ও টার্গেটিং নিশ্চিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ প্রমাণ করছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে ব্যয়বহুল অস্ত্রের নয়, বরং বুদ্ধিমান ও সস্তা প্রযুক্তির, যেখানে ড্রোন ও এআই-ই হবে মূল চালিকাশক্তি।



