ডিজিটাল বৈষম্যে শহর-গ্রাম ফারাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৯পরিবর্তন করতে ক্লিক করুন
ডিজিটাল বৈষম্যে শহর-গ্রাম ফারাক

স্কেচ: এআই

শেয়ার করুন:

লিঙ্গ বৈষম্যও উদ্বেগজনক। মোবাইল মালিকানায় পুরুষ ৭০ দশমিক শূন্য শতাংশ, নারী ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরুষ ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ, নারী ৫০ দশমিক ২ শতাংশ।

 

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে ঢাকা শীর্ষে, যেখানে ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সবচেয়ে পেছনে ময়মনসিংহ, সেখানে মাত্র ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে। স্মার্টফোন ব্যবহারে এগিয়ে কুমিল্লা, আর পিছিয়ে কুড়িগ্রাম। ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল ব্যবহার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ, ইন্টারনেট ব্যবহার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ, আর কম্পিউটার ব্যবহার মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। গ্রাম-শহর বৈষম্যও তীব্র—শহরে ইন্টারনেট ব্যবহার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ, অথচ গ্রামে মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপে দেশের ডিজিটাল ব্যবহারের এ চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিবিএস অডিটোরিয়ামে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

 

লিঙ্গ বৈষম্যও উদ্বেগজনক। মোবাইল মালিকানায় পুরুষ ৭০ দশমিক শূন্য শতাংশ, নারী ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরুষ ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ, নারী ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। বেশি দামের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবা নেন না। ডিজিটাল ঝুঁকির মধ্যে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি, যা ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ।

 

দেখা গেছে, তরুণ-তরুণীদের অনলাইন কর্মকাণ্ডে সরকারি চাকরির তথ্য অনুসন্ধান শীর্ষে—৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্রীড়া সংক্রান্ত তথ্য, যা ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতিদিন ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।

 

ডিজিটাল দক্ষতার দিকে তাকালে দেখা যায়, সর্বোচ্চ অনলাইন দক্ষতা কপি-পেস্টে—৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ। গত তিন মাসে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে পণ্য বা সেবা ক্রয় করেছে। গত এক বছরে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সরকারি সেবা নিয়েছেন। আইসিটি উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশ মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে।

 

জরিপে আরও দেখা গেছে, মুঠোফোনে রেডিও শোনার প্রবণতা বাড়ছে, আর টেলিভিশন দেখার প্রবণতা কমছে। পরিবার পর্যায়ে মুঠোফোনে প্রবেশাধিকার ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও ইন্টারনেট সুবিধা আছে মাত্র ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের। বিদ্যুৎ সুবিধা পায় ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আশার আলো হলেও ডিজিটাল বিভেদ কমাতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন: