সিঁদুর খেলা: বিদায়ের রঙে নারীশক্তি ও সখ্যতার উদযাপন

ছবিঃ সংগৃহীত
লাল রঙ হলো আদিম সৃষ্টি শক্তি ও উর্বরতার প্রতীক। শাক্তদর্শন অনুযায়ী, সিঁদুর হলো সেই পরম শক্তির বহির্বিভাগ, যা জীবন ও সৃষ্টিকে রক্ষা করে। সিঁদুর খেলার মাধ্যমে সধবা নারীরা একে অপরের মঙ্গল কামনা করেন এবং তাঁদের ভেতরের নারী শক্তিকে একতাবদ্ধ করেন।
বিজয়া দশমীতে দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ সিঁদুর খেলা। দেবীর বিদায়বেলায় সধবা নারীদের এই আয়োজনের মধ্যে রয়েছে উৎসবের আনন্দ, পারস্পরিক মঙ্গলকামনা ও নারী সখ্যতার এক বিশেষ প্রকাশ।
বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা দুর্গাপূজার এক অত্যন্ত রঙিন ও প্রাণবন্ত রূপ। মায়ের বিদায়বেলায় এয়োস্ত্রীরা বা সধবা নারীরা লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরে দেবীর গালে, কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং মিষ্টি মুখ করান। এরপর তাঁরা নিজেদের মধ্যেও সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। এই সিঁদুর খেলা উৎসবের আনন্দধারা পেরিয়ে, নারী শক্তির একতা ও নারী সখ্যতার এক গভীর সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।
লাল রঙ হলো আদিম সৃষ্টি শক্তি ও উর্বরতার প্রতীক। শাক্তদর্শন অনুযায়ী, সিঁদুর হলো সেই পরম শক্তির বহির্বিভাগ, যা জীবন ও সৃষ্টিকে রক্ষা করে। সিঁদুর খেলার মাধ্যমে সধবা নারীরা একে অপরের মঙ্গল কামনা করেন এবং তাঁদের ভেতরের নারী শক্তিকে একতাবদ্ধ করেন। এটি এমন এক মুহূর্ত যখন নারীরা নিজেদের দুঃখ-কষ্ট ভুলে জীবনের রঙকে উদযাপন করেন।
উমা যখন তাঁর স্বামী শিবের কাছে ফিরে যান, তখন তাঁকে ঘরের মেয়ে হিসেবে অত্যন্ত আনন্দের সাথে বিদায় দেওয়া হয়, যাতে তাঁর পথ সুগম হয়। সিঁদুর খেলার এই আনন্দ তাই বিরহের বেদনাকে আড়াল করার এক সামাজিক উৎসব। সুফি সাধকেরা যেভাবে মৃত্যুকে পরমেশ্বরের সাথে মিলনের ‘উরস’ বা বাসর রাত হিসেবে উদযাপন করেন, সিঁদুর খেলাও তেমনই মায়ের বিদায়কে এক পরম আনন্দের রূপ দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি বিদায়কেই ভালোবাসার রঙে রাঙিয়ে বিদায় জানাতে হয়।


