সারের ডিলারশিপে সংসদ সদস্যদের আত্মীয়স্বজন, ৫৫ জেলার তালিকায় ৮০ শতাংশ দলীয় পরিচয়ে নিয়োগের অভিযোগ

ছবিঃ সংগৃহীত
যে সার বিতরণব্যবস্থা হওয়ার কথা ছিল নিরপেক্ষ ও পেশাদার, যেখানে ডিলারশিপ পাওয়ার কথা প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের, সেখানে সরকারি দলের 'লোক' হওয়াই যেন ডিলারশিপ পাওয়ার প্রধান যোগ্যতা হয়ে উঠেছে।
পাবনা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও কিংবা রাজশাহী—একেকটি জেলা দেশের একেক প্রান্তে, কিন্তু সর্বত্র একই চিত্র। সারের ডিলারশিপে বসেছেন সংসদ সদস্যদের ভাই, সন্তান, মামা, খালু, তালতো ভাই, খালতো ভাই, দুলাভাই ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন।
সম্প্রতি প্রকাশিত ৫৫টি জেলার আংশিক তালিকায় দেখা গেছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের প্রায় ৮০ শতাংশই সরকারি দলের পরিচয় কিংবা দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যে সার বিতরণব্যবস্থা হওয়ার কথা ছিল নিরপেক্ষ ও পেশাদার, যেখানে ডিলারশিপ পাওয়ার কথা প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের, সেখানে সরকারি দলের 'লোক' হওয়াই যেন ডিলারশিপ পাওয়ার প্রধান যোগ্যতা হয়ে উঠেছে।
এই ডিলারশিপ শুধু দলবাজির বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন ও জালিয়াতির অভিযোগ। ফরিদপুরের নগরকান্দা, রংপুর ও দিনাজপুরে কোনো প্রকার যোগ্যতা ছাড়াই বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
সরকারি নীতিমালায় নিজস্ব গুদাম ও পূর্ব অভিজ্ঞতার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও কাগজপত্রে ভুয়া গুদাম ও ভুয়া চুক্তিনামা দেখিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চূড়ান্ত জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। সেখানে কৃষি দপ্তরের নিজস্ব কালো তালিকাভুক্ত এক অবৈধ কীটনাশক ব্যবসায়ীকে সারের ডিলার বানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ফলে কিছু লোক যদি ঘুষ ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পকেট ভরতে পারে, তাহলে আমাদের সমস্যা কী? আমরা কেন এ নিয়ে কথা বলছি? কারণ, এর প্রত্যক্ষ মাশুল দিতে হবে এ দেশের কৃষককে।
লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে এবং দলীয় প্রভাবে ডিলারশিপ পাওয়া ব্যক্তিরা সারের পিক সিজনে সার গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন। সরকারি ভর্তুকির সার চড়া দামে খোলাবাজারে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভরতে পারেন। আর ডিলারশিপ পেতে যে ঘুষের টাকা ব্যয় করা হয়েছে, তা তুলে নেওয়ার বোঝাও শেষ পর্যন্ত চাপবে কৃষকের ওপর। ফলে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হবে কৃষককে।
জবাবদিহিহীন ও কালো তালিকাভুক্ত ডিলারদের কারণে বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের সারের বিস্তার ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কৃষকের ফসল। দলীয় সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ ও ক্ষুদ্র কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। ভর্তুকির সার সময়মতো ও সঠিক দামে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরা সুবিধা পেলেও সাধারণ কৃষকের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।


