ইসরাইলের নির্বাচন: নেতানিয়াহু হারলেও কি বদলাবে ফিলিস্তিন নীতি?

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫পরিবর্তন করতে ক্লিক করুন
ইসরাইলের নির্বাচন: নেতানিয়াহু হারলেও কি বদলাবে ফিলিস্তিন নীতি?

ঢাকা পেপার্স অনলাইন গ্রাফিক্স

শেয়ার করুন:

...ভোটে ক্ষমতার পালাবদল হলেও তেলআবিবের নিরাপত্তা কৌশলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা একদমই ক্ষীন। কারণ ইরানকে প্রধান শত্রু ভাবা, সামরিক শক্তির মারমুখী ব্যবহার আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাধা দেওয়া; এই তিন নীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে কোনো মতভেদ নেই।

অবরুদ্ধ গাজায় নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ আর লেবানন-ইরানজুড়ে ছড়ানো যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই ভোট দিতে যাচ্ছেন ইসরাইলের জনগণ। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ভোটে নির্ধারিত হবে তেলআবিবের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। কিন্তু নেতায় বদল এলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নীতি কি আদৌ বদলাবে? নাকি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঝুলবে এক বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন?

২৬তম নেসেট বা পার্লামেন্ট নির্বাচনে এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী ‘লিকুদ পার্টি’ জোট এবং বিরোধী ইহুদি জোট। তবে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

এমনিতে পার্লামেন্টে আসন পেতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তত ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। তবে চার বছরের পার্লামেন্টের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে নেই কোনো নির্দিষ্ট সীমা। আর সেই সুযোগেই দুর্নীতির মামলায় বিচার চলার পরও প্রায় ১৯ বছর ধরে ক্ষমতার মসনদে আটকে থাকা নেতানিয়াহু এবারও লড়াইয়ে নেমেছেন। যার পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি ভরসার কার্ড!

কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে ক্ষমতার পালাবদল হলেও তেলআবিবের নিরাপত্তা কৌশলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা একদমই ক্ষীন। কারণ ইরানকে প্রধান শত্রু ভাবা, সামরিক শক্তির মারমুখী ব্যবহার আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাধা দেওয়া; এই তিন নীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে কোনো মতভেদ নেই।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা, লেবানন ও ইরানে ছড়ানো যুদ্ধ ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতিকে আরও বেশি আক্রোশমূলক করে তুলেছে। তেলআবিবের মূল নজর এখন তেহরানের শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, সীমান্তের বাইরে নিজেদের শক্ত বলয় তৈরি রাখা এবং সামরিক শক্তিতে প্রতিপক্ষকে থামিয়ে দেওয়া।

এমতাবস্থায় নেতানিয়াহু যদি তার কট্টর ডানপন্থী সঙ্গীদের নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসেন, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ইরানের ওপর হামলা জোরদারের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে পুরো দমে ঝাঁপিয়ে পড়বে তার সরকার।

অন্যদিকে, নির্বাচনে বিরোধীরা জিতলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বড় কোনো অলৌকিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। নতুন সরকার হয়তো কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি ফেরাতে কিছু কৌশলগত নরম সুরে কথা বলতে পারে। অর্থাৎ, মৌলিক নীতি একই রেখে কেবল পরিবর্তনের রূপ নেওয়া এই নির্বাচন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আসল গতিপথ আদৌ বদলাবে কি না, তা নিয়ে চরম সংশয় থেকেই যাচ্ছে!



শেয়ার করুন: