সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরচ্ছেদ, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
"পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হবার কারণেই এরকম ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। অথচ এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার বদলে নাগরিকদের বিরুদ্ধেই অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং একে 'শিক্ষা' বলে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন। কমিটি অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।"
সৌদি আরবের মক্কা নগরীর একটি মসজিদে চুমু খাওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরচ্ছেদ করে সৌদি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গত বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)। যে দুজনের শিরচ্ছেদ করা হয়, তারা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হবার কারণেই এরকম ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। অথচ এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার বদলে নাগরিকদের বিরুদ্ধেই অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং একে 'শিক্ষা' বলে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন। কমিটি অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।"
সৌদি আরবে নারী শ্রমিকদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনা উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, "বিপুল প্রবাসী জনগোষ্ঠীকে কেবল 'টাকার মেশিন' বানিয়ে রাখা হয়েছে, বিপদে তাদের প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রবাসীদের পাঠানো রক্ত পানি করা রেমিট্যান্স দিয়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, রিজার্ভের গল্প সাজানো হয়; অথচ সেই প্রবাসীরাই বিদেশের মাটিতে বিচারহীনতা ও সুরক্ষার অভাবে প্রাণ হারান।"
একই সঙ্গে দেশে ও প্রবাসে শ্রমিকদের জীবন, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় ছয় দফা দাবি জানিয়েছে কমিটি।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সৌদি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশ মিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেওয়া কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের আইনি ও কূটনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
নিহত প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাঁদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দিতে হবে।
চিকিৎসার অভাবে কর্মরত অবস্থায় নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, বকেয়া মজুরি পরিশোধ, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা ও পোশাক কারখানায় মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী শ্রমিকদের, বিশেষত নারী শ্রমিকদের, নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিতে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও তদারকি জোরদার করতে হবে।


