সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে আরএসএসের সন্ত্রাসী হামলা

স্কেচ: এআই
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) সন্ত্রাসী হামলা চালাল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস ও তাদের শাখা সংগঠন
কলকাতায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) সন্ত্রাসী হামলা চালাল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস ও তাদের শাখা সংগঠন। রবিবার বিকাল থেকে এই হামলা চালানো হয়। এই প্রতিবেদন লেখার সম অবধি হামলা জারি রয়েছে। আহত চলচ্চিত্র নির্মাণের বহু পড়ুয়া ও অধ্যাপক। কলকাতার ইএম বাইপাসে অবস্থিত এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপকদের আটকে রেখে বহিরাগত হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালাচ্ছে বলে খবর। যদিও নির্বিকার কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
যেহেতু আরএসএস অনুগত বিজেপির সরকার পশ্চিমবঙ্গে, তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই কলকাতার পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে নীরব। অন্যদিকে শাসক দল বিজেপির কর্মীরাও আরএসএস দুষ্কৃতীদের সঙ্গে হামলায় শামিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে ভারতের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি মহলে। গোটা ভারত জুড়ে এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।
এসআরএফটিআই ছাত্র সংসদ একটি প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, এদিন আরএসএসের শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচি ছিল ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা অডিটোরিয়ামে। নিয়ম অনুযায়ী এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের মধ্যে বহিরাগত কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অডিটোরিয়াম ভাড়া ন্যেয়, সেক্ষেত্রে ছাত্র সংসদের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ নিতে হয়। অথচ এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে আরএসএসের শাখা সংগঠনকে ক্যাম্পাসের মধ্যে তাদের কর্মসুচী পালনের অনুমতি দেয়।
যার প্রতিবাদে এদিন ছাত্রছাত্রীরা আরএসএস-বিজেপি বিরোধী স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন। আর তার প্রতিক্রিয়াতেই গোটা ক্যাম্পাস জুড়ে গেরুয়া বাহিনীর তাণ্ডব শুরু হয়। ছাত্রছাত্রীদের ‘দেশদ্রোহী’, ‘আরবান নকশাল’, ‘দিমাগি নকশাল’, ‘ককরোচ’ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে লাঠি, ছুরি, হকিস্টিক ইত্যাদি দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক হামলা। আহত হন বহু ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপক। এমনকী অভিযোগ, তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে বাধা দেয় হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীরা। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারেও হামলা চালায়। মারাত্মক জখম হন গ্রন্থাগারিক। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপকরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে তাঁদের ওপরেও চড়াও হয় হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীরা।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী, গৌতম ঘোষ, অপর্ণা সেন, শ্যামল কর্মকার, অশোক বিশ্বনাথন, কিউ প্রমুখ। নিন্দা জানিয়েছে প্রোগ্রেসিভ আর্টিস্ট লিগ। প্রতিবাদে শামিল হয়েছেও ছাত্র সংগঠন এসএফআই, আইসা, আরএসএফ ও অন্যন্য বহু সংগঠন। পুনা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরা এই ঘটনার প্রতিবাদে মহারাষ্ট্রের পুনায় সংহতি মিছিল করেছেন।
উল্লেখ্য, কদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে আরএসএস-বিজেপি বাহিনী। এবার এসআরএফটিআই। ২০১৪ সালে ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর একইভাবে পুনা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে হামলা চালায় আরএসএস-বিজেপি। ভারতের প্রগতীশীল বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য, বিজেপি-আরএসএস-সহ তামাম হিন্দুত্ববাদী প্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চা, শিল্পচর্চা, মুক্তচিন্তা চর্চা ইত্যাদির বিরোধী। তাই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতাদির ওপর হামলা নামিয়ে আসছে।
-- --
বিশেষ প্রতিনিধি, ভারত



