ইরান যুদ্ধ বদলে দিচ্ছে ‘শাহেদ-১৩৬’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩:০০পরিবর্তন করতে ক্লিক করুন
ইরান যুদ্ধ বদলে দিচ্ছে ‘শাহেদ-১৩৬’

ছবি: উইকি

শেয়ার করুন:

‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী হওয়ায় এবং রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা থাকায় এগুলোকে ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী অস্ত্র হিসেবে সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের সংজ্ঞাকে আমূল বদলে দিয়েছে ইরানের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি। বর্তমানে তেহরানের হাতে থাকা ড্রোন বা ‘আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকল’ (ইউএভি) কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের ড্রোন শিল্পের এই অভাবনীয় উন্নতি দেশটিকে স্বল্প ব্যয়ে উচ্চঘাতী সামরিক শক্তিতে পরিণত করেছে।

 

আন্তর্জতাকি সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ইরানের ড্রোন বহরের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ‘শাহেদ-১৩৬’ বা আত্মঘাতী ড্রোন। এটি খুব কম উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এবং রাডারকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার এর কার্যকারিতা বিশ্বদরবারে প্রমাণ করেছে। এ ছাড়া ‘মোহাজের-৬’ এবং ‘ফিতরাস’-এর মতো ড্রোনগুলো নজরদারি ও আকাশ থেকে ভূমিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে অত্যন্ত দক্ষ। এগুলো কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে টানা ২৪ ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে।

 

‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী হওয়ায় এবং রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা থাকায় এগুলোকে ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী অস্ত্র হিসেবে সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মোহাজের-৬ এবং ফিতরাস ড্রোনের পরিসীমা নিয়ে তথ্যে কিছুটা সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ফিতরাস ড্রোন প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হলেও মোহাজের-৬ মূলত স্বল্প থেকে মাঝারি পাল্লার অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়টি তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যা আধুনিক ড্রোনের ক্ষেত্রে অসম্ভব নয়, তবে এর পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত লক্ষ্যভেদী সক্ষমতা নিয়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে।

 

ইসরায়েলের আয়রন ডোম বা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রাডার ব্যবস্থা এই ড্রোনগুলোকে শনাক্ত করতে পারলেও ড্রোনের সংখ্যা বেশি হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝে মাঝে চাপের মুখে পড়ে।

 

তেহরানের এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর নির্মাণশৈলী। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তাদের নিজস্ব প্রকৌশল বিদ্যায় ইলেকট্রনিক্স ও অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছে। ইরানের ড্রোনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। এমনকি ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'আয়রন ডোম' বা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডারকেও এগুলো মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন কেবল একটি অস্ত্র নয়, এটি একটি ‘অপ্রতিসম যুদ্ধের’ হাতিয়ার। আকাশপথের এই আধিপত্য ইরানকে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। যেখানে একটি ফাইটার জেটের পেছনে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়, সেখানে মাত্র কয়েক হাজার ডলারে তৈরি একটি ড্রোন দিয়ে বিশাল লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে।

 

এই প্রযুক্তির বিস্তার ও আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে এর সরবরাহ বর্তমানে বিশ্ব ভূ-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

 

শেয়ার করুন: