ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ৮:০৩পরিবর্তন করতে ক্লিক করুন
ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

ছবি: উইকি

শেয়ার করুন:

বিশ্বের অনেক উন্নত শহরে স্মার্ট ট্র্যাফিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকায় একই ধরনের প্রযুক্তি চালু হওয়ায় যানজট কমানো এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা বহুবছরের। সড়ক আইন অমান্য, উল্টো পথে চলাচল, লেন না মানা, অবৈধ পার্কিং কিংবা যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা যেন নিত্য ঘটনা। এসব নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এআইভিত্তিক ক্যামেরা চালুর উদ্যোগকে নগর ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, কারওয়ানবাজার, বাংলামোটরসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে শুরু হয়েছে এআই মনিটরিং। মোট ২৪টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এসব পয়েন্টে। এসব পয়েন্টে বসানো এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাফিক আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্ত করছে। এরপর সেই তথ্য ডিএমপির কন্ট্রোল সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে মামলা করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি প্রচলিত ম্যানুয়াল নজরদারির তুলনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং অধিক কার্যকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বের অনেক উন্নত শহরে স্মার্ট ট্র্যাফিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকায় একই ধরনের প্রযুক্তি চালু হওয়ায় যানজট কমানো এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের উপস্থিতি না থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হওয়ায় চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়তে পারে।

 

তবে এই ব্যবস্থার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথমত, প্রযুক্তিনির্ভর শনাক্তকরণ শতভাগ নির্ভুল না হলে নিরীহ কেউ হয়রানির শিকার হতে পারেন। যদিও ডিএমপি বলছে, ৮০ শতাংশের কম নিশ্চিত হলে মামলা করা হচ্ছে না এবং অভিযুক্তকে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। তবুও ভুল শনাক্তকরণ বা তথ্যগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।

 

দ্বিতীয়ত, শুধু প্রযুক্তি স্থাপন করলেই ট্র্যাফিক সমস্যা সমাধান হবে না। সড়ক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন শৃঙ্খলা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নাগরিক সচেতনতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে প্রযুক্তির কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।

 

এ অবস্থায় এআই ক্যামেরা চালু করা ঢাকার ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। সঠিক বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং জনসচেতনতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই প্রযুক্তি রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে।

শেয়ার করুন: