বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে স্টারলিংক ওয়াইফাই সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪:০০পরিবর্তন করতে ক্লিক করুন
বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে স্টারলিংক ওয়াইফাই সেবা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, উইকি

শেয়ার করুন:

এই বিশেষ সেবায় অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা ‘স্টারলিংক’ এবং ‘পাওয়ার ওভার ইথারনেট’ (পিওই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। 


দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্মার্ট করে তুলতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বড় রেলস্টেশনগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 


এই প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি  ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার আন্তঃনগর ট্রেনে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করা হয়। এই বিশেষ সেবায় অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা ‘স্টারলিংক’ এবং ‘পাওয়ার ওভার ইথারনেট’ (পিওই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। 


পিওই প্রযুক্তির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে একটিমাত্র ইথারনেট কেবলের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ এবং ডেটা বা তথ্য উভয়ই একসঙ্গে সরবরাহ করা যায়, যা অবকাঠামোগত জটিলতা অনেকটা কমিয়ে দেয়।


প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এই উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় ট্রেনের ভেতর ইন্টারনেটের বেশ আশাব্যঞ্জক গতি লক্ষ্য করা গেছে। 


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডাউনলোডের গতি ছিল গড়ে ৮ থেকে ৮৮ এমবিপিএস এবং আপলোডের গতি ছিল ১৩ থেকে ৪৭ এমবিপিএস। এই ভ্রমণে ল্যাটেন্সি বা তথ্যের আদান-প্রদানের বিলম্বের হার ছিল ২৩ থেকে ৪৭ মিলিসেকেন্ড। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্টারলিংক অ্যাপ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১৩৬ এমবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলোড গতি এবং ৩১ এমবিপিএস আপলোড গতি পাওয়া গেছে, যা রেল ভ্রমণে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নতুন অভিজ্ঞতা।


উপদেষ্টা আরও জানান, এই সেবাটি কেবল একটি রুটে সীমাবদ্ধ থাকছে না। খুব দ্রুতই ঢাকা–রাজশাহী, ঢাকা–সিলেট এবং ঢাকা–খুলনা—এই তিনটি রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতেও যাত্রীরা ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। 


সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই নির্বাচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল), যারা বাংলাদেশে স্টারলিংকের অনুমোদিত বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে।


রেলপথের পাশাপাশি আকাশপথের যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেও কাজ করছে সরকার। দেশের তিনটি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নত ওয়াইফাই সেবা চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। 


রেহান আসাদ বলেন, ঈদের আগেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও বড় রেল স্টেশনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করা হবে। তবে বাকি স্থানগুলোতে ঈদের পর পর্যায়ক্রমে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত যেমন সহজতর হবে, তেমনি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এটি হবে একটি বড় মাইলফলক।

শেয়ার করুন: