মোদি-শাহের মসনদ তথা ভারতীয় গৈরিক ফ্যাসিবাদের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা

অতনু সিংহ
অতনু সিংহ
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৩পরিবর্তন করতে ক্লিক করুন
মোদি-শাহের মসনদ তথা ভারতীয় গৈরিক ফ্যাসিবাদের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা

নয়া দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্রজনতার বিক্ষোভ ও সংসদ ঘেরাওয়ের পর কোণঠাসা মোদি-শাহ সরকার। লেখক অতনু সিংহের বিশ্লেষণে জানুন ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও ক্ষমতার পরিবর্তন বার্তা।

শেয়ার করুন:

নয়া দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্রজনতার বিক্ষোভ ও সংসদ ঘেরাওয়ের পর কোণঠাসা মোদি-শাহ সরকার। অতনু সিংহের বিশ্লেষণে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও ক্ষমতার পরিবর্তন বার্তা।

নয়া দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্রজনতার অবস্থান বিক্ষোভ, অনশন কর্মসূচি ও ভারতের সংসদ ভবন ঘেরাও করার পর থেকে থরথর করে কাঁপছে ভারতের ফ্যাসিস্ট শাসক নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের মসনদ। আরএসএস-বিজেপি পরিচালিত ভারতের কেন্দ্রীয় এনডিএ সরকার ভেবেছিল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরেই ছাত্রজনতার ক্ষোভ প্রশমিত হবে। কিন্তু দেখা গেল উল্টোটা। প্রথমে বিজেপি বলেছিল, তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইস্তফা দেওয়ার কোনো নজির কখনো তৈরি হয়নি।

এ কথা বলার পরেও নয়া দিল্লি-সহ ভারতব্যাপী বিক্ষোভে মাথানত করতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার। ছাত্রজনতার ব্যাঘ্রগর্জনে বিজেপির এক সময়ের হুঙ্কার পরিণত হয় বিড়াল ক্রন্দনস্বরে। প্রমাণিত হয়, জনতার আদালতে ইতিহাসে যেভাবে জব্দ হয়েছে মুসোলিনি-হিটলার থেকে হালফিলের শেখ হাসিনা, তার ব্যতিক্রম নয় মোদি-শাহের তখৎ।

যন্তরমন্তরে উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের কবিতা গজলের সুরে সুরে গেয়ে উঠে ছাত্রজনতা বলেছিল, 'সব তাজ উঁছালে যায়েঙ্গে সব তখৎ গিরানে যায়েঙ্গে, হাম দেখেঙ্গে'... ফ্যাসিবাদী সাম্রাজ্য ও ফ্যাসিস্ট মসনদ পতনের যে কসম নিয়েছিল ছাত্রজনতা, সেই শপথ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে জেগে উঠেছে ভারতের মেহনতি জনতা, ছাত্রযুব-সহ সমস্ত বর্গের মানুষ। এবার উঠেছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি। যে দাবি ভারতীয় সংসদের ভিতর ও বাহিরে সমান তালে ধ্বনিত হচ্ছে। আর সেই দাবির সঙ্গেই মোদি জামানার পতনকাল ক্রমশই এগিয়ে আসছে সামনে।

ছাত্রজনতার বিক্ষোভে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের মাথা অমিত শাহ

যন্তরমন্তর-সহ ভারতব্যাপী ছাত্রজনতার বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী ও সেনাবাহিনীর একাংশ বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল। যন্তরমন্তরে পেরেকযুক্ত লাঠি ও পেলেট গানের আঘাতে অনেক শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাপক লাঠিচার্জে অনেকেই মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন দিল্লিতে। দিল্লির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ভারতের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের শহরগুলিতে ছাত্র আন্দোলনের ওপর একইভাবে দমনপীড়ন নামিয়ে আনে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী।

দিল্লির আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশ সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন। আর তাই ছাত্রযুবদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভারতীয় সংসদের 'বাদল অধিবেশন' বা বর্ষাকালীন অধিবেশনে অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। যন্তরমন্তরেও নতুন করে সংগঠিত হয়েছে ছাত্র বিক্ষোভ।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবিতে কার্যত ভয় পেয়ে অমিত শাহ বর্ষাকালীন অধিবেশনে অনুপস্থিত থেকেছেন। লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন কক্ষের পাশাপাশি সংসদ ক্যাম্পাসেও কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই, সিপিআইএমএল (লিবারেশন), সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, শিবসেনা (উদ্ধব) প্রভৃতি দল একযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শনও চালায় গোটা বর্ষাকালীন অধিবেশন জুড়ে।

শুধু বিক্ষোভই নয়, ভারতের বিচারব্যবস্থাকে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক কার্যক্রমে কার্যত সংকুচিত করার পরেও সর্বোচ্চ আদালত ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এদিকে অমিত শাহ দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকায় তাঁর নিজের দায় অস্বীকার করে সেই দায় চাপিয়েছেন প্রশাসনের ওপরে। যা একপ্রকার হাস্যকর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতি ব্যতীত যে কোনোভাবে পুলিশ বা আধা সামরিক বাহিনী বা সেনাবাহিনী কোনোপ্রকার পদক্ষেপ করে না, তা প্রায় সকলেরই জানা। এরপরেও অমিত শাহ তার দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টায় কসুর করছেন না। আর যত অমিত শাহ এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতে চাইছেন ততই কেন্দ্রীয় সরকারকে ঘিরে ধরছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষত এই ব্যাপারে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপে কোণঠাসা অমিত শাহও এবং তাঁর দলবলও মরিয়া পুলিশ ও মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে বিরোধীদের দমন করতে। অভিযোগ উঠেছে, ইজরায়েল ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে বিশেষ মুখমণ্ডল চিহ্নিতকরণ প্রযুক্তি বা ফেস রিকগনিশন টেকনোলজি আমদানি করে আন্দোলনকারী ছাত্রজনতার তথ্য সংগ্রহ করে ডেটা সেন্টার তৈরি করছে বিজেপি, যাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশদ্রোহিতা-সহ নানা মিথ্যা অভিযোগে প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধ করা যায়।

কে এই অমিত শাহ

বিগত ১৪ বছর ভারতের ক্ষমতায় মোদি সরকার। আর দীর্ঘ এই সময়কালে বিজেপি শাসনের মাস্টারমাইন্ড হয়ে কাজ করেছেন অমিত শাহ। যদিও এক্ষেত্রে যদি কেউ ভাবেন শাহের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মেধার জেরেই বিজেপির শাসনকালে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন অমিত শাহ, তাহলে তিনি মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। আসলে গুজরাত দাঙ্গার অন্যতম হোতা অমিত শাহ অন্ধকার জগতের বাদশাহ। রাজনীতির সঙ্গে অপরাধজগত ও কর্পোরেট দুনিয়ায় মেলবন্ধনের কাজটা তিনি নরেন্দ্র মোদি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই করে আসছেন।

গুজরাত দাঙ্গার গেরুয়া নকশার ডিজাইনও মোদি-শাহ ভ্রাতৃদ্বয়ের হাতেই তৈরি। তো এহেন অমিত শাহই এখন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর হাতে আধাসামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনী, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সিংহভাগের ক্ষমতা রয়েছে। এই অমিত শাহ আদানি-আম্বানির মতো বড় কর্পোরেট বসেদের থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা করায়ত্ত করে তা বিরোধী সাংসদ, বিধায়কদের কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করার মূল কারিগর।

নানা মামলা-মোকদ্দমায় ফাঁসিয়ে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে ভীতিপ্রদর্শন করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের কিনে নেওয়ার কাজটি তাঁর নখদর্পণে। পাশাপাশি ভারতের বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, রিজার্ভ ব্যাংক-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিজেপির এজেন্ডায় চলতে বাধ্য করার কাজটিও তিনিই করছেন। টাকা, পেশিশক্তি ও রাষ্ট্রযন্ত্র— এই তিনটি অস্ত্র ব্যবহার করে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঠামোকে ভিতর থেকে ধ্বংস করার কাজটি এক যুগের বেশি সময় ধরে করছেন অমিত শাহ। বলা যেতে পারে তিনি এখন বিজেপির মস্তিষ্ক। ফলত তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হতে চরম বিপাকে মোদি সরকার।

প্রবল চাপে আরএসএস

বিজেপির রাজনীতি তাদের মাদার অর্গানাইজেশন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বর্তমানে বিজেপির পতনশীল অবস্থায় প্রবল চাপে আরএসএস। কারণ, জেন-জির আন্দোলন এবং বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি একযোগে এবার আরএসএস-বিজেপি-মুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়েছে। ভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-আরএসএসের আজকের অবস্থার বিষয়টি পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে একবার সংঘ পরিবারের ইতিহাস ঝালিয়ে নেওয়া দরকার।

বহুজাতিক, বহুত্ববাদী, বহুদেশীয় ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের বিনির্মাণ ঘটিয়ে একক দেশ, একক জাতি ও একক ধর্মের জাতিরাষ্ট্র গঠনই মূলত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের লক্ষ্য। তাদের আরও লক্ষ্য, ভারতকে একটি মনুবাদী ও ব্রাহ্মণ্যতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চেহারা দেওয়া। ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে আরএসএস ১৯২৫ সাল থেকে এই লক্ষ্যে অবিচল থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯২৫ সালে কে বি হেডগেওয়ার এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা করেন। মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট পার্টি ও হিটলারের নাৎসি পার্টি তাদের মতাদর্শগত অনুপ্রেরণা।

আরএসএস বরাবরই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের সরাসরি বিরোধিতা করে এসেছে। সাতচল্লিশের আগে আরএসএস তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে মূলত হিন্দু মহাসভার মাধ্যমে। পাশাপাশি কংগ্রেসের দক্ষিণপন্থী অংশের ভিতরে ঢুকেও তারা তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। হিন্দু মহাসভার সদস্য নাথুরাম গডসে স্বাধীন ভারতে গান্ধিজীকে হত্যা করলে ১৯৪৮ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতের বিভিন্ন অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির চাপে আরএসএসকে নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হন।

কিন্তু মাত্র একবছর পরে ফের সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে উন্মুক্ত হয় আরএসএস। ১৯৫১ সালে আরএসএস তাদের রাজনৈতিক দলকেও সামনে আনে। যেটি ছিল ভারতীয় জনসংঘ। এরপর ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধী আরএসএস ও জামায়াতে ইসলামী হিন্দকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও পরে ১৯৭৭ সালে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় এই শর্তে যে তারা কোনোরকম রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকবে না।

এই জরুরি অবস্থার সময় জনসংঘ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টির সঙ্গে মিশে যায়। কিন্তু ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার হওয়ার পরে ক্রমে ক্রমে জনতা পার্টির মধ্যেকার জনসংঘের অংশ ১৯৮০ সালে বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর রাম মন্দির নির্মাণ আন্দোলন ও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কালপর্ব। নব্বই দশকের শুরুতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস হলে সাময়িকভাবে অল্প কিছুদিন আরএসএস ফের নিষিদ্ধ হয়।

কিন্তু বিজেপি উন্মুক্ত থাকে। পরে সোভিয়েতমুক্ত দুনিয়া, উদার অর্থনীতির আমদানি-সহ ভূরাজনৈতিক নানা কারণে ডানপন্থী রাজনীতির অনুকূলে হাওয়া বইতে শুরু করলে ফের উন্মুক্ত হয় আরএসএস। কিন্তু তারপরেও তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম বিশেষ ব্যাপ্তি পায়নি। কিন্তু তা সম্পূর্ণতা পায় ২০১৪ সালে। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে ২০১৪ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় মসনদে গুজরাতের কসাই হিসেবে খ্যাত নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতাসীন হলে গোটা ভারত আস্তে আস্তে আরএসএসের হাতের মুঠোয় চলে যায়। বিজেপি তো বটেই, এমনকী বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ভিতরেও আরএসএসের প্রভাব বাড়তে থাকে।

ব্যাপ্ত হয় হিন্দু-মুসলিম জাতিবাদী বাইনারি রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ, মুসলিম ও খ্রিস্টান বিদ্বেষ এবং বামবিদ্বেষী রাজনৈতিক আবহ। সংসদ, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও গণমাধ্যম— সংসদীয় গণতন্ত্রের এই চারটি স্তম্ভের গৈরিকীকরণ হয়ে যায় অবলীলায়। তীব্র হয় অর্থনৈতিক বৈষম্য। কেড়ে নেওয়া হতে থাকে মেহনতি মানুষের অধিকার, নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার। এছাড়া ক্রমেই মার্কিন দুনিয়া ও ইজরায়েলের পুতুলে পরিণত হতে থাকে ভারত। এই দমবন্ধ পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে প্রথমে এনআরসি (জাতীয় নাগরিক পঞ্জি) ও সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধন আইন)-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন ও তারপর কোভিড পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে কৃষক আন্দোলন আরএসএস-বিজেপির বিরুদ্ধে গণজেহাদের ডাক দেয়।

কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করে রাখার ফলে চব্বিশেও কোনোক্রমে ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

আর তারপরেই ২০২৫ সালে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের নাম করে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় এক কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয় বিজেপি। দখল হয় পশ্চিমবঙ্গ।

আর তাই এত কিছুর পরে বিজেপি-আরএসএসকে প্রায় একটি জগদ্দল পাথরের মতো মনে করতে শুরু করেছিল ভারতবাসী। কিন্তু নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্রজনতার বিক্ষোভে সেই পরিস্থিতির বদল হতে শুরু করল। সামগ্রিকভাবে ভারত রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে প্রয়াস আরএসএস-বিজেপি চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জনরোষই যেন আছড়ে পড়ল ছাত্রজনতার বিদ্রোহে। আর তাই এবার বিজেপির পাশাপাশি ভয় পাচ্ছে আরএসএস।

তারা যে ভয় পাচ্ছে তার প্রমাণ, আরএসএসের সর্বোচ্চ নেতা মোহন ভাগবতের বয়ান। যে আরএসএস রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ্যবাদী, পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো তৈরি করতে চায়, সেই আরএসএসের সর্বোচ্চ নেতা মোহন ভাগবত জেন-জির মন কাড়তে তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার নিয়ে কথা বলছেন, গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে কথা বলছেন, এমনকী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি দমনপীড়নের বিরুদ্ধেও বিবৃতি দিচ্ছেন। শুধু তাই নয় মোহন ভাগবত ইতিমধ্যেই জেন-জির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

কিন্তু ককরোচ জনতা পার্টি নেতৃত্বের পাশাপাশি জেন-জির ছেলেমেয়েদের মোহন ভাগবতের কথায় কোনোরকম আস্থা খুঁজে পাননি। ব্যর্থ হয়েছে সেই বৈঠক। আসলে এই মুহূর্তে গোটা ভারত শুধুই বিজেপির পতন চাইছে না, পাশাপাশি ভারতবাসীর দাবি, আরএসএসমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণ। এদিকে মোহন ভাগবতরা এটাও বুঝেছেন, যে আদানি-আম্বানিদের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে, আমেরিকা-ইজরায়েলের পদলেহন করতে গিয়ে কোথাও কোথাও নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহরা আরএসএসকেও উপেক্ষা করছেন।

আর তাই এহেন পরিস্থিতিতে ঘরে-বাইরে প্রবল মুসিবতে পড়েছে সংঘ পরিবার বা আরএসএস। আর তাদের হৃদস্পন্দন ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছেন রাহুল গান্ধী। তিনিই প্রথম কোনো কংগ্রেস নেতা, যিনি লাগাতারভাবে আরএসএসকে আক্রমণের নিশানায় রেখেছেন।

কৃষকরা যেকোনো মুহূর্তে দিল্লির দখল নিতে পারে

আমেরিকার সঙ্গে ভারতের প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে উভয়সংকটে মোদি সরকার। এই চুক্তি সম্পাদিত হলে একদিকে ভারতে কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার আমেরিকার জন্য উন্মুক্ত হবে। আর যার জেরে ধ্বংস হতে পারে ভারতের কৃষকদের বাজার। আর এই আশঙ্কা দেখা দেওয়ার ফলে রণং-দেহি চেহারা পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ-সহ গোটা উত্তর ভারতের কৃষকদের।

উল্লেখ্য যন্তরমন্তরে ছাত্রজনতার অবস্থান বিক্ষোভে এই কৃষকদের একটা অংশও যোগ দিয়েছিল। ককরোচ জনতা পার্টি অবস্থান প্রত্যাহার না করলে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতৃত্বে লাখো কৃষক যোগ দিতেন ওই বিক্ষোভে। সে যাই হোক, এখন ফের সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা নয়া দিল্লি দখলের তোড়জোড় করছে।

তাদের দাবি, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। নইলে দখল হবে নয়া দিল্লি। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, আমেরিকার কথা কোনোভাবে অমান্য করলে এপস্টেইন ফাইলে থাকা মোদির কেচ্ছা ফাঁস করে দেবে ওয়াশিংটন। তাই আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি না করে কোনো উপায় নেই মোদির। কিন্তু একবার ওই চুক্তি হয়ে গেলেই এবার আবারও কৃষক অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হবে মোদি-শাহ রেজিম।

কৃষকদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত গাড়িচালকরাও ফুঁসছে মোদি শাসনে। মোদির মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি যেভাবে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বা ই-২০ জ্বালানিকে কায়দা করে জ্বালানির জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন, তাতে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ নিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই যন্তরমন্তরে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কৃষকরা দিল্লি অবরুদ্ধ করলে তাতেও শামিল হবেন এই গাড়িচালকরা। তাঁদের দাবি, নীতিন গড়কড়ির পদত্যাগের।

ককরোচ জনতা পার্টির ভারত অভিযান

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি এবার গোটা ভারত অভিযান করতে চলেছে। সদস্য সংগ্রহ ও মোদি-শাহ রেজিমের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করতে তাদের এই অভিযান। ইতিমধ্যেই তারা ২০ জনের একটি কমিটি তৈরি করেছে। পরের লক্ষ্য রাজ্য স্তরে সংগঠন তৈরি ও আরএসএস-বিজেপি বিরোধী রাজনীতিকে তীব্র করে তোলা। একই লক্ষ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা।

ঝাড়খণ্ডেও চলমান ছাত্রজনতার আন্দোলনেও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনসমূহ ও সিজেপির একাংশের যোগদানের ফলে ছাত্রসমাজে তাদের পক্ষে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। এদিকে বামপন্থী ছাত্রযুব নেতৃবর্গের সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ রাখছেন রাহুল গান্ধী।

রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা বাড়ছে

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা যত দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে, বিশেষত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধের ডাকে ব্যাপক সাড়া পড়েছে ছাত্রযুবদের মধ্যে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে জেন-জির ছেলেমেয়েদের নিয়ে রাহুলের একটি সভায় ভিড় ও গণউন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাহুল ওই সভায় দেখান ভারতের ফিন্যান্সিয়াল, সোশ্যাল ও পোলিটিক্যাল— এই তিনটি ক্ষেত্রে কীভাবে দেশকে লুট করছে বিজেপি।

তিনি জেন-জিকে স্পষ্ট জানান, তাঁদের সঙ্গে আরএসএস-বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে তিনি সবরকমভাবে আছেন। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের আদিত্যনাথ যোগীর সরকার সবরকমভাবে রাহুলের সভাকে বানচাল করার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু কয়েক লক্ষ ছাত্রজনতার কাছে হার মানতে হয় উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ন্ত্রণ ও গোদি মিডিয়ার পিছু হটা

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে জেন-জির আন্দোলন যেভাবে ভারতব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে প্রবলভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত বিজেপি এবার চাইছে সম্পূর্ণভাবে এই তিনটি সামাজিক মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। মেটাকে শর্ত দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষের প্রচার বাড়াতে হবে, সংকুচিত করতে হবে সরকার বিরোধী পোস্টকে।

এই শর্ত না মানতে পারলে মেটাকে ভারত ছাড়া করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। যদিও বাস্তবিক ক্ষেত্রে মেটা কতটা এই হুমকি শুনবে আর তাদেরকে ভারতে মোদি কি আদৌ অবরুদ্ধ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে। কিন্তু মোদি বাহিনীর এই ফতোয়া প্রমাণ করছে, সরকারের যেকোনো সমালোচনা ও বিরুদ্ধাচরণে তারা এতটাই ভীত যে তার জেরে সামাজিক মাধ্যমকেও তারা বন্ধ করতে চাইছে। এদিকে বিজেপি ও তাদের বস কর্পোরেট সংস্থাগুলি যেসব ধামাধরা গণমাধ্যম পয়দা করেছে, সেইসব গোদি মিডিয়ার প্রতি ভারত জুড়ে জনরোষ বাড়ছে।

বিজেপি বিরোধী যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রিপাবলিক, টাইমস, জি-নেটওয়ার্ক, এবিপি, এনডিটিভির মতো মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা রীতিমতো হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। টানা ১৪ বছর ধরে যে গোয়েবেলসীয় প্রচার চালিয়েছে এইসব গোদি মিডিয়া, সেগুলিই এখন ব্যাক-ফায়ার করছে তাদের বিরুদ্ধে।

সংসদীয় গণতন্ত্রে ১৪ বছরে এই প্রথম বিপাকে বিজেপি

ডিলিমিটেশন বিল বা লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের বিল বিজেপি পাস করতে পারেনি। উপযুক্ত সংখ্যক সাংসদের সমর্থন না পাওয়ায় বিলটি পাস হয়নি। আর তার জেরেই অমিত শাহ বিরোধী দলগুলি ভাঙানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে ভীতিসঞ্চার করার পাশাপাশি টাকার লোভ দেখিয়ে দলত্যাগ করান। ওই ২০ জন সাংসদ সম্পূর্ণ অনামী একটি দলে যোগ দেন।

কিন্তু জেন-জির বিক্ষোভ ও সংসদ অভিযানের পরে ভারতে এই মুহূর্তে যে বৈপ্লবিক পরিস্থিতি বিরাজমান, তাতে ওই ২০ জন সাংসদের মধ্যে তিন মুসলিম সাংসদের নতুন করে বোধোদয় হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন যে তাঁরা কোনোভাবেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন না। এদিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুর দল তেলুগু দেশম পার্টি বা টিডিপি নতুন করে এনডিএ জোটের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখলেই তারা এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির শোচনীয় পরাজয় গেরুয়া শিবিরকে চরম বিপাকে ফেলেছে। উল্লেখ্য, বিহারের বাঁকিপুরের ওই আসনটি ছিল বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন-এর।

আসনটিতে বিজেপি প্রায় অপ্রতিরোধ্য ছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবেক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর তাঁর দল জন সুরাজ পার্টির হয়ে ওই আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজেপিকে ব্যাপকভাবে পরাজয়ের মুখ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি রাজস্থানের একটি আসনের বিধানসভা উপনির্বাচনেও পরাজিত বিজেপি। সব মিলিয়ে ২০১৪ সাল থেকে ভারতে বিজেপির যে জয়রথ চলছিল, তা ধাক্কা খাচ্ছে ছাব্বিশে এসে।

ভূরাজনীতিতে কোণঠাসা মোদি

ভারতের এতদিনকার জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিকে অস্বীকার করে যেভাবে নরেন্দ্র মোদি সরাসরি ইজরায়েলের পক্ষ নিয়েছেন, তাতে খুব স্বাভাবিকভাবেই ভূরাজনীতিতে প্রান্তিক হয়ে পড়ছে ভারত। ট্রাম্প বাদে আমেরিকাও এখন আর পছন্দ করছে না ভারতের বিজেপি রেজিমকে। এমনকী খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পও মোদিকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করছেন। যার জেরে মোদি একের পর এক নিজের দেশের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ করছেন মার্কিন স্বার্থে।

অন্যদিকে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে নানা সময় ইরান বিরোধিতার ইঙ্গিত দিয়ে মোদি পড়েছেন বিপাকে। ইন্দো-ইরান ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বে ধরেছে চিড়। ইউরোপ জুড়ে ইজরায়েল ইস্যুতে মোদির বিরুদ্ধে নানা সময় প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে। সুযোগ বুঝে চীনও ভারতের অরুণাচল প্রদেশের বড় অংশ নিজেদের দখলে নিচ্ছে। আর এ ব্যাপারে মোদি সরকার ও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্ৰক নীরব। অন্যদিকে রাশিয়াও আগের মতো উষ্ণ বন্ধুত্ব বজায় রাখছে না মোদি সরকারের সঙ্গে।

বোঝা যাচ্ছে যে ভূরাজনীতিতে মোদি সরকার একেবারেই কোণঠাসা। মোদির একমাত্র বন্ধু এখন নেতানিয়াহু। কিন্তু ভূরাজনীতিতে ইরানের প্রবল উত্থান, রাশিয়া-ইরান-চীন মৈত্রী ও আমেরিকার পিছু হটার মতো ঘটনায় স্পষ্ট জায়ানিজমের পতনও অবশ্যম্ভাবী। তাই নেতানিয়াহু যে ভূরাজনীতিতে মোদির শক্তপোক্ত বন্ধু হতে পারবেন না তা বুঝতে পারা মোটেও শক্ত কাজ নয়। অন্যদিকে ইন্দো-ইজরায়েল বন্ধুতার জেরে ভারত কূটনৈতিকভাবে বিশ্বের অনেক পরীক্ষিত বন্ধুকে হারাচ্ছে। এর খেসারত মোদি বাহিনীকেই দিতে হবে।

অর্থাৎ নানাবিধ ক্ষেত্রে মোদি-শাহ বাহিনী এখন পিছ হটুছে, অন্যদিকে ভারতব্যাপী তীব্র হচ্ছে মোদি-শাহ বিরোধিতা। মোদির বশ্যতা অস্বীকার করতে শুরু করেছে অনেকেই। সব মিলিয়ে এটা না বোঝার কোনো কারণ নেই যে আরএসএস-বিজেপি রেজিম পতনের মুখে। খুব শীঘ্রই ভারতবাসী বিজেপি-আরএসএসকে 'টাটা গুডবাই' বলতে পারবে।

--

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক,  কলকাতা, ভারত।

ইমেইল- [email protected]

শেয়ার করুন: