প্রকৃতি বনাম পুঁজি: নয়া-উদারবাদ এবং নদীবিধ্বংসী রাজনৈতিক অর্থনীতি


স্কেচ: এআই
নদীর পানিপ্ৰবাহ বন্ধ করা থেকে শুরু করে কৃষি ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা নষ্ট করে সেখানে একটি সম্পূর্ণ নতুন, আমদানি ও সড়ক-নির্ভর ইকোসিস্টেম তৈরি করাটি মূলত বৈশ্বিক পুঁজির বাজারের বিস্তার।
পুঁজিবাদের আদি ও অকৃত্রিম ভিত্তিই হলো নিরবচ্ছিন্ন মুনাফা উৎপাদন করা। উৎপাদনের কাঠামোগত ধারায় এই প্রক্রিয়াটি যখন অতিরিক্ত মূলধন তৈরি করে ফেলে, তখন পুঁজিপতি শ্রেণি 'অতি-উৎপাদন' বা ওভার-প্রোডাকশনের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হয়। ঘরে পড়ে থাকা অলস পুঁজি ও অবিক্রিত পণ্যের চাপে অর্থনীতি স্থবির হতে থাকে, যার সমাধান খুঁজতে তাদের যেতে হয় নির্দিষ্ট রাষ্ট্রসীমানার বাইরে। পুরোনো বাজার নিজেদের কবজায় রাখার জন্য যেমন রাজনৈতিক বা সামরিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, ঠিক তেমনি নিত্যনতুন বাজারের সন্ধানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ও সমাজ-কাঠামোতে অনুপ্রবেশ করে পুঁজির ধারকগোষ্ঠী। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষের নতুন প্রযুক্তির বড় সড়ক, আধুনিক সেতু বা ভারী নির্মাণ অবকাঠামোর প্রকৃত প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক—ঋণের শর্ত, বাণিজ্যচুক্তি এবং দাতা সংস্থাগুলোর তথাকথিত উন্নয়নের বয়ানে সেগুলো অনুন্নত দেশের নাগরিকদের ওপর সরাসরি চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বায়নের বর্তমান অধ্যায়ে উদ্বৃত্ত পুঁজির এই যে চেহারা—যাকে কাঠামোগত দিক দিয়ে নয়া-উদারবাদী বা নিও-লিবারেল পুঁজি বলে আখ্যা দেওয়া যায়—তারই দীর্ঘমেয়াদি শোষণের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং এখানকার প্রবহমান নদনদী।
দেশের সাম্প্রতিক সময়ের মেগা অবকাঠামো এবং উন্নয়ন দর্শনকে যদি আমরা কার্ল মার্ক্সের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ কিংবা লেনিন-নির্দেশিত সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির চরিত্র দিয়ে বিচার করি, তাহলে পরিবেশগত দুরবস্থাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলার কোনো সুযোগ থাকে না। নদীর পানিপ্ৰবাহ বন্ধ করা থেকে শুরু করে কৃষি ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা নষ্ট করে সেখানে একটি সম্পূর্ণ নতুন, আমদানি ও সড়ক-নির্ভর ইকোসিস্টেম তৈরি করাটি মূলত বৈশ্বিক পুঁজির বাজারের বিস্তার।
পরিবেশ-মার্ক্সীয় বীক্ষায় বিপন্ন জলাধার
প্রথাগত অর্থনীতি অনেক সময় শুধু মানুষের উৎপাদনশীল শ্রমকে বিচার করে, কিন্তু ইকো-মার্ক্সিস্ট বা মার্ক্সীয় পরিবেশবিজ্ঞান স্মরণ করিয়ে দেয় যে পুঁজিবাদী কাঠামোতে প্রকৃতির ওপর দখলদারত্ব ছাড়া কেবল মানুষের শ্রম দিয়ে বড় আকারের মুনাফা বের করা সম্ভব নয়। তাত্ত্বিক জন বেলামি ফস্টার কার্ল মার্ক্সের লেখাগুলোর সূত্র ধরে 'মেটাবলিক রিফ্ট' বা বিপাকীয় ফাটলের যে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছিলেন, তার বড় প্রয়োগ দেখতে পাওয়া যায় তৃতীয় বিশ্বের পরিবেশনীতিতে। পুঁজি এমনভাবে বিকশিত হতে চায় যা মানুষের সাথে ভূমির, নদীর বা অরণ্যের চিরায়ত মিথস্ক্রিয়াকে বা বিপাকীয় ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে এবং শেষ পর্যন্ত বাস্তুতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বড় আকারের ক্ষতিসাধন করে।
নদীমাতৃক বদ্বীপ হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ছিল হাজার বছরের বহমান নৌপথ। মানুষের যোগাযোগ, কৃষির পলিমাটি এবং জেলের জাল ফেলা—সবই ছিল একেকটি নদীর অংশ। কিন্তু দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়নে যখন আধুনিকতার প্রবেশ ঘটল, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এজেন্সির সাহায্যে, তখন প্রকৃতি তার রূপ হারাতে শুরু করে। দেশব্যাপী তথাকথিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থাপনা তৈরির উদ্দেশ্যে হাজার হাজার কংক্রিট পোল্ডার ও পানিনিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নদীর ওপর দাঁড় করানো হয়েছে। এই দীর্ঘ ধারাবাহিক কাজের ফলস্বরূপ, প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণের নৌপথ আজ মারাত্মকভাবে সংকুচিত। সরকারি তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পূর্বে যেখানে বর্ষাকালে বিপুল নৌ-সংযোগ বিরাজমান থাকত, আজ তা মাত্র ৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটারে ঠেকেছে, এবং শুষ্ক মৌসুমে নেমে আসে সাড়ে তিন হাজারের কাছাকাছি জায়গায়। বিদেশি সংস্থাগুলোর পুঁজি বা কনসালটেন্সির ব্যবসা সম্প্রসারণের নামে নিজস্ব কংক্রিটের ও ইস্পাতের মজুত কমানো হচ্ছে, যার নেতিবাচক খেসারত দিতে গিয়ে আমাদের হাজারো নদনদী কেবল বদ্ধ নর্দমা বা মৃতভূমিতে পরিণত হয়েছে।
লোকায়ত যোগাযোগব্যবস্থার বাণিজ্যায়ন
কোনো সমাজ যখন নিজের দেশের ভেতরের পরিবহন ও চলাচলের খরচকে মানুষের আওতার ভেতর নিয়ে আসে, তখন সেখানে বাজার ব্যবস্থাও অনেকাংশে স্বস্তিদায়ক থাকে। পণ্য আনা-নেওয়ার সঞ্চালন ব্যয় যদি কমানো সম্ভব হয়, সাধারণ ভোক্তার জীবনে সেটি বিরাট ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমাদের কাঠামোগত পরিকল্পনার বড় দুর্বলতা হলো, এখানে এমন যাতায়াত ব্যবস্থায় গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে যা খরচের মাত্রাকে ক্রমশ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পুঁজির এই সংকটটির রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক রূপ বুঝতে মার্ক্সবাদী চিন্তাবিদ ডেভিড হার্ভে প্রণীত 'স্প্যাশিয়াল ফিক্স' বা 'স্থানিক সমাধান'-এর ধারণাটি সাহায্য করতে পারে। ধনী বা কোর রাষ্ট্রগুলোর হাতে যখন অনেক পুঁজি আটকে যায় এবং মুনাফার সুযোগ তলানিতে চলে যায়, তখন সেই পুঁজির ভৌগোলিক স্থানান্তর ঘটানো হয় মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে। বিদেশ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ধার করে দেশব্যাপী মূলত মহাসড়ক আর বহুমুখী ভারী কাঠামো তৈরি হয়েছে। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা একটি ব্যাপক বিস্তৃত সিন্ডিকেটের সৃষ্টি করেছে। যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক রুট বিবেচনায় আনলে নৌপথে টন-প্রতি একটি কনটেইনার নিতে আনুমানিক যে ছয়শত টাকা খরচের হিসাব পাওয়া যায়, তা রেলে বারোশ এবং ট্রাক বা সড়কে বহুমাত্রিক রূপ পেয়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় পরিণত হয়। এতে বোঝা যায় যে এই অবকাঠামোগত বিশাল কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে মূলত বাস ও ভারী যানবাহন আমানির সুবিধার জন্য এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধার স্বার্থে। পরিবহনের এই উচ্চ খরচ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়, যার ধাক্কা শেষপর্যন্ত নিতে বাধ্য হয় সাধারণ ক্রেতা শ্রেণি।
অনুৎপাদনশীল বাজার ও নির্ভরশীলতার বৃত্ত
বর্তমান বিশ্বকাঠামো এমন একটি অবস্থানে উপনীত হয়েছে যেখানে উন্নত দেশগুলো চাইছে প্রান্তিক দেশগুলোতে কোনোভাবেই যেন তাদের নিজস্ব মৌলিক টেকসই বা ভারী শিল্পের বিকাশ না ঘটে। বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও তাত্ত্বিক সামির আমিনের বিশ্লেষণগুলো ঘাঁটলে দেখা যায়, পরনির্ভরশীলতার মডেলটি তৈরিই হয়েছে যেন স্বল্পোন্নত অঞ্চলগুলো কেবল কাঁচামালের জোগানদাতা ও পণ্যের ভোগকেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকে। হাজারো কোটি টাকার সড়ক যোগাযোগ এ দেশে কোনো আধুনিক ইঞ্জিন বানানোর ফ্যাক্টরি, মূলধনী যন্ত্রাংশ তৈরির কোনো স্বনির্ভর হাব তৈরি করেনি। বরং তৈরি পোশাকের মতো নিম্ন-মজুরির কিছু কাজ বিস্তৃতি পেয়েছে যেখানে আমরা যন্ত্রও কিনি বাইরের, সুতাও আসে বিদেশ থেকে, এবং কাঁচামাল জুড়ে কেবল হস্তশিল্পের মতো আমরা কাজ করে থাকি।
কার্ল মার্ক্স 'ডাস ক্যাপিটাল'-এর তৃতীয় খণ্ডে যেভাবে শিল্প-পুঁজি এবং বণিক-পুঁজির সুস্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ করেছিলেন, তার আলোকে দেশের পরিস্থিতি আরও গভীরভাবে বিচার করা যায়। স্বনির্ভর হতে একটি দেশে এমন পুঁজিপতি শ্রেণি দরকার যারা প্রোডাকশনে যুক্ত হয়। কিন্তু এখানে রাষ্ট্র কাঠামোর সুযোগ ও প্রশ্রয়ে মূলত তৈরি হয়েছে এমন একদল ধনিক শ্রেণি যারা শুধুমাত্র বাইরে থেকে উৎপাদিত বস্তু—সেটি বিলাসবহুল গাড়ি হোক কিংবা দৈনন্দিন কসমেটিকস—এনে এখানকার ক্রেতাদের কাছে বিক্রয় করে রাতারাতি ধনকুবের হয়ে উঠেছে। বণিক বা ফড়িয়া-নির্ভর অর্থনীতি বিদেশি পণ্যের গোডাউনের জন্ম দিয়েছে। ঠিক এ কারণেই বিশাল ব্যয়ের প্রকল্পগুলোর পরও দেশে সত্যিকারের বৈশ্বিক উৎপাদকমূলক বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির এবং জিডিপির আধা শতাংশেরও কম জায়গায় আটকে আছে। এটি দেশের অর্থনীতিকে একটি চিরস্থায়ী নির্ভরশীলতার গহ্বরে ডুবিয়ে দিচ্ছে।
শ্রমশোষণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিবাসন
অর্থনৈতিক কাঠামো নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য যেখানে ছিল স্থায়িত্ব এবং জীবনমানের বিকাশ, সেখানে মেগাপ্রজেক্ট ও নদীভরাটের জেরে ব্যাপক মানুষ কর্মহারা। অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়েক যেভাবে অনুন্নত বিশ্বের গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের মাধ্যমে পুঁজির অবাধ শোষণের রূপরেখা অঙ্কন করেছেন, এ দেশের সাধারণ পেশাজীবীদের চিত্রও অনেকটা সেরকম। জলাভূমির অস্তিত্ব হারিয়ে যাওয়া বা নদীর নাব্যতা হ্রাস কেবল জীববৈচিত্র্য নয়, এর সাথে জড়িত লক্ষ গ্রামীণ জেলের রোজগার কিংবা প্রান্তিক মাঝিমাল্লার প্রাচীন পেশাটি ধ্বংস করেছে।
স্থানীয় পর্যায় থেকে উচ্ছেদ হওয়া মানুষ বিশাল বেকার জনসংখ্যার বা মার্ক্সীয় অর্থে ‘রিজার্ভ আর্মি অব লেবার’-এর অংশ হয়। কাজের খোঁজে প্রথমত এরা পাড়ি জমায় বৃহৎ শহরের অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমে, কিংবা জীবনের বিপুল ঝুঁকি মাথায় নিয়ে মরুভূমির দেশে। প্রবাসীদের প্রেরিত মুদ্রায় দেশের রিজার্ভ টিকিয়ে রাখার বাহবা থাকলেও গভীরের সংকট হলো—উপার্জনের পর পাঠানো অর্থ শেষপর্যন্ত বিদেশি ঋণ শোধ করা বা দামি আমদানি পণ্য কেনার মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের অর্থনীতিতেই মিশে যাচ্ছে। ফলে তৃতীয় বিশ্বের শ্রমিকের মানবেতর খাটুনি প্রকৃতপক্ষে কেন্দ্রের অর্থনীতিকে স্ফীত করার একটি ঘুরপাক চক্রে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বলয় এবং গণতান্ত্রিক সংকট
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। লেনিন উল্লেখ করেছিলেন, বৃহৎ লগ্নীপুঁজি এবং আন্তর্জাতিক ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর যখন বিশ্বজুড়ে বিশাল প্রভাব থাকে, তখন একটি দুর্বল রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ তাদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে বাধ্য। বিভিন্ন ব্যাংক ও পশ্চিমা শর্ত-শাসিত জোটগুলোর নির্দেশনামা আমাদের দেশে এমন এক বলয় তৈরি করেছে যেখানে অর্থনৈতিক ঋণ কেবল আর্থিক নীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের আইন-কানুন বা জনগণের মৌলিক নীতি নির্ধারণে বাইরের হস্তক্ষেপ জোরালো করেছে। প্রকল্পের পর প্রকল্প ঋণ করার ফলস্বরূপ বাজেটের বড় একটি অংশ সুদ দিতে চলে যাচ্ছে, বিপরীতে রাষ্ট্রের সেবামূলক ক্ষেত্রগুলো যেমন শিক্ষা কিংবা জনস্বাস্থ্যে বাজেট বরাদ্দে কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা যায়।
এ ধরনের প্রকল্পকেন্দ্রিক একপাক্ষিক নীতির বিস্তার একসময় দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও নাগরিক অংশীদারত্বকে একেবারেই পাশ কাটিয়ে যায়। নদী ও পরিবেশ বিনষ্ট করে সড়ককে বাণিজ্যের বিশাল মাধ্যমে রূপান্তর—এটি তাই কেবল প্রকৃতিবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড নয়; একইসঙ্গে অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর সমান্তরাল প্রতিফলন। নিজস্ব শ্রম, সম্পদ এবং বাস্তুসংস্থানভিত্তিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার চর্চাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় মুক্তির পথ উন্মোচন করতে পারে। প্রকৃতির পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা থেকে উত্তরণ, উভয়ের লক্ষ্য একটি অপরটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।
---
*লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ঢাকা পেপারস।
ইমেইল: [email protected]



