দ্রোহের কার্নিভালে ভারত: ফ্যাসিস্ট শালীনতা ভেঙে জেন-জির প্রতিরোধ

ভারতে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে বদলাচ্ছে রাজনীতির ভাষা। বাখতিনের কার্নিভাল তত্ত্বের আলোকে অতনু সিংহের বিশ্লেষণ
ভারতসহ গোটা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে যত আন্দোলন, সংগ্রাম, গণআন্দোলন, এমনকী সশস্ত্র আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে, সব কটি ক্ষেত্রেই বয়ান ও স্লোগান ছিল দ্রোহচেতনার গাম্ভীর্যে পরিপূর্ণ। একমাত্র নিম্নবর্গের সামাজিক নানা আন্দোলন, ভক্তি আন্দোলন ও ভাবান্দোলনের ইতিহাসে তাকালে দেখা যায়, প্রেম, ভক্তি, রস ও ভাবের সঙ্গে মিশেছিল ব্যাঙ্গ ও বিদ্রূপ। যে কারণে সেসব বয়ান, পদ, গীতি ইত্যাদিকে একটা সময় অবধি বিত্তবাদী সমাজ ‘চটুল’ আখ্যা দিয়ে এসেছে। কিন্তু এবার বাবুদের আখ্যা দেওয়া নিম্নবর্গের সেই সরস ও ‘চটুল’ সমাজ-রাজনৈতিক বয়ানই হয়ে উঠেছে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জিদের নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদবিরোধী মহাসংগ্রামের হাতিয়ার।
ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহুত্ববাদী, বহুজাতিক রাষ্ট্রে যখন এক জাতি, এক ধর্ম, এক ভাষার ব্যবস্থা প্রায় কায়েম করে কর্তৃত্ববাদী ‘ঐক্য’ গণঐক্য প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিল, ঠিক তখনই ভারতের চলমান ছাত্রজনতার আন্দোলনের ভাব, ভাষা, প্রকরণ, স্লোগান ও বয়ান থেকে উঠে আসা ব্যাঙ্গ, তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ, তথাকথিত গালিগালাজ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মহাসংগ্রামের গণঐক্যের ভিতকে মজবুত করে তুলল। জেন-জিদের সাধারণ মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটাই ভারতের ফ্যাসিবাদী বিচারব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চরম বিদ্রূপের নমুনা সামনে আনে। বাংলাদেশে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে যুক্ত হয়ে যেভাবে শাসকের দেওয়া ‘রাজাকার’ ট্যাগকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল স্লোগানের অংশ করে তুলেছিল, ঠিক সেভাবেই বা তার থেকে আরও এক ধাপ ওপরে জেন-জিকে দেওয়া ‘আরশোলা’ বা তেলাপোকা আখ্যাই হয়ে উঠল ছাত্রজনতার আন্দোলনের মঞ্চের নামের অংশ। আর সেই সূত্রেই প্রথম ধাপে টানা ৩৬ দিন নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি এবং বাম ও মধ্যপন্থী ছাত্রযুবদের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি থেকে শুরু করে সংসদ অভিযানের বৃহত্তর আন্দোলনে দেখা গেল এতদিনকার রাজনৈতিক পরিভাষা ও তথাকথিত শালীনতাকে পরোয়া না করে সামনে হাসি-তামাশা, শ্লেষ, বিদ্রূপ, ব্যাঙ্গ ও গালিগালাজে পরিপূর্ণ স্লোগান ও বয়ানে মুখরিত হয়ে উঠেছেন নবযৌবনের কাণ্ডারীরা। তাঁদের লক্ষ্য অবশ্যই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ আরএসএস-বিজেপির গোটা টিমের দিকে নিশানাবদ্ধ। যার ফলে দেখা গিয়েছে, এতদিন যেসব শব্দবোমা কেবলমাত্র নিম্নবর্গের প্রতিস্পর্ধাতে উচ্চারিত হয়েছে, এখন তা ভারতীয় জেন-জির মাধ্যমে মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত তথাকথিত ‘পাতিবুর্জোয়া’ শ্রেণির মুখভাষ্যেও শোভা পাচ্ছে।
দ্রোহের উৎসব, শব্দের সাবভার্সন
যন্তরমন্তরসহ গোটা ভারতের চলমান ছাত্র আন্দোলনের স্লোগানে বহু ‘অশ্লীল’ শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। সেই সব শব্দবন্ধযুক্ত পোস্টার, ব্যানার, ট্যাটু ও পোশাক নিয়েই আন্দোলনে ঝাঁপিয়েছে জেন-জি। তাঁদের ওপর নেমে এসেছে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট গান। তারপরেও তাঁরা দমে যাননি। বরং লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের সামনে, জলকামানের পানিবর্ষণের মুখে তাঁরা ডিজে বাজিয়ে নেচেছেন। গাওয়া হয়েছে গান। বাঁধা হয়েছে র্যাপ। ভোজপুরি চটুল সুরকেও হাতিয়ার করা হয়েছে আন্দোলনে। তৈরি হয়েছে অজস্র কার্টুন ও গ্রাফিক্যাল আর্ট। রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গিয়েছে ফ্যাসিজমবিরোধী শ্লেষাত্মক পলিটিক্যাল মিমে। আরশোলা ও স্পাইডারম্যান সেজে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। এমনকী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর আন্দোলন সাময়িক স্থগিত থাকার সুযোগে যখন ফ্যাসিস্ট গেরুয়া শাসক মামলা-হামলা অব্যাহত রেখেছে, তখনও এই আন্দোলনের ভাষা ও মুখভরা হাসি নিয়ে ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ থেকে পিছু হটেননি জেন-জির দলবল।
কিছু সাধারণ স্লোগান ছিল এমন: ‘পেপার লিক নেহি, সিস্টেম লিক বনধ করো’ (প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার ছিদ্র মেরামত করো) কিংবা ‘ডিগ্রি চাহিয়ে, ডিল নেহি’ (ডিগ্রি চাই, বোঝাপড়া নয়)। এছাড়া নানা অর্থহীন শব্দবন্ধ উঠে এসেছে এই মুভমেন্টে। যেমন—‘কুচুপুচু’। ‘কুচুপুচু, আজ আমাদের জন্মদিন, তাই আজই আপনি পদত্যাগ করুন’—এমন নানা বয়ান। আরেকটি শব্দ খুবই ভাইরাল হয়েছে, সেটি হলো ‘Delulu’। ডিলিউশনাল বা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা অপদার্থ শাসককে বোঝাতে এই শব্দটিকে ফুটে উঠতে দেখা গিয়েছে নানা পোস্টারে। এমনকী মোদিকে ‘শালা’ সম্বোধন করে বলা হয়েছে, ‘সিস্টেম পুরা চোর হ্যায়, মোদি শালা ভাড়োয়া হ্যায়’। ‘ভাড়োয়া’ হচ্ছে হিন্দি ভাষায় একটি গালি। একটি পোস্টারে দেখা গিয়েছে, মোদির পুরুষাঙ্গ দুদিক থেকে টেনে ধরেছে পুঁজিপতি আদানি আর আম্বানি।
নিন্দুকেরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিপ্রম্পটার দেখে ভাষণ দিতে গিয়ে নানা সময় ভুল উচ্চারণ করে তিনি স্বয়ং নিজেকে হাসিঠাট্টার পাত্র করে তোলেন। যেমন তিনি একবার লিখে দেওয়া কোনো সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করতে গিয়ে যা উচ্চারণ করে ফেলেছিলেন, তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। আন্দোলনের মধ্যে মোদির সেই ভুল উচ্চারণে বিকৃত সংস্কৃত শ্লোকই হয়ে উঠেছে জেন-জির মিম কনটেন্ট। সেটি হলো: ‘অঙ্গেন গাত্রং নয়নেন বজ্রং, ন্যায়েন রাজ্যং, ল্যাওড়ে ভোজ্যম’ (বাক্যটির কোনো অর্থই নেই, রয়েছে মোদির বাফুন হয়ে ওঠার নমুনা)! আর মোদির পাশাপাশি অমিত শাহ ও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিয়ে মিমও নজর কেড়েছিল সকলের। উল্লেখ্য, এসব মিম, স্লোগান ও গ্রাফিক্যাল কনটেন্টের জেরে নতুন করে শুরু হয়েছে পুলিশি দমনপীড়ন। গোয়ায় শতাধিক ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে খবর। দিল্লিতেও এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে পুলিশ। এদিকে মোদিকে ফের সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে শিক্ষার্থীদের সামনে অভিমান করতে দেখা গিয়েছে। কেন তাঁকে গালি দেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্ন করেছেন মোদি। অন্যদিকে পুলিশের দমনপীড়ন এবং আন্দোলনে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে শুরু হয়েছে আন্দোলন।
কার্নিভালিস্ট দ্রোহচেতনা
ভারতে জেন-জির এই আন্দোলনের ভাষা, স্লোগান, বয়ান ইত্যাদি প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে রুশ দার্শনিক ও সাহিত্যতাত্ত্বিক মিখাইল মিখাইলোভিচ বাখতিনের (১৮৯৫-১৯৭৫) কার্নিভাল তত্ত্বের কথা মাথায় আসে। মিখাইল বাখতিন দেখিয়েছেন, মধ্যযুগের ইউরোপে রাষ্ট্র ও পুরোহিততন্ত্রের খচিত সরকারি বয়ান এবং সামন্ততান্ত্রিক বিধির বিপ্রতীপে অপ্রাতিষ্ঠানিক লোকায়ত জীবনচর্যার কার্নিভাল থেকে বারবার উঠে এসেছে প্রত্যাঘাত। বাখতিনের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Rabelais and his World’-এ দেখানো হয়েছে, সরকারি প্রাতিষ্ঠানিকতার সমান্তরাল লোকায়ত স্তরের জীবনচর্যা থেকে যে সংস্কৃতি, লোকাচার-উপাচার, হাসি-গান, প্যারোডি ও কৌতুক উঠে আসে, তা প্রাতিষ্ঠানিকতার প্রতি লোকায়ত দ্রোহ। বাখতিন আরও বলছেন, ধনতান্ত্রিক যুগের পরিশীলিত-বৌদ্ধিক পাঠকৃতিতেও এ ধরনের কার্নিভালীয় প্রত্যাঘাত দেখা যায়। এমনকী সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় সরকারি আধিপত্য আর আমলাতন্ত্রের বিরোধিতা প্রসঙ্গেও বাখতিন জানিয়েছেন, দমনমূলক পরিস্থিতির অবসানের লক্ষ্যে কার্নিভাল বাস্তবতার পাল্টা বয়ান তৈরি করে। মনে রাখা দরকার, মার্ক্সীয় নন্দনতত্ত্বকে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার খাঁচা থেকে বের করে আরও পূর্ণতর করে তোলার জন্য লোকসমাজের সমান্তরাল বয়ানের প্রতি বাখতিন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বাখতিন দেখিয়েছেন, কার্নিভাল চেতনায় চালিত গণমানুষ কীভাবে প্রচলিত সামাজিক নিয়ম ও শালীনতার গণ্ডি ভেঙে রাস্তায় নেমে আসেন। যারা ক্ষমতার অধিকারী বা সমাজের নীতিনিয়ন্ত্রক, কার্নিভালে তাদের কর্তৃত্বকে সাময়িকভাবে অস্বীকার বা উপহাস করা হয়। এমনকী তাঁর আরও পর্যবেক্ষণ—কার্নিভাল-সুলভ সংস্কৃতিতে গালিগালাজ কোনো নিছক অপরাধ বা অভদ্রতা নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক পবিত্রতার মুখোশ খুলে দেয় এবং মানুষকে মাটির কাছাকাছি বা বাস্তবতার মুখোমুখি নিয়ে আসে। বাখতিনের এহেন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভারতের জেন-জির এই আন্দোলন। ফ্যাসিস্ট ভদ্রবিত্তের সংস্কারাচ্ছন্ন রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি এ এক কার্নিভালীয় প্রত্যাঘাত।
গণতন্ত্রের নৃত্য বা নৃত্যমুখর গণতন্ত্র
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র সম্পর্কে কয়েক দশক আগে একটি শব্দবন্ধ গণমাধ্যমে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল, সেটি হলো—‘Dance of Democracy’। বহুদলীয় নির্বাচনী ব্যবস্থার রঙধনু অবয়ব ও তার সুরছন্দতালে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক কাঠামোরও নৃত্যমুখর একটি রঙিন প্রতিচ্ছবি মূর্ত হতো ভারতীয় জনমানসের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের কাছে। কিন্তু মাঝে প্রায় এক যুগেরও বেশি এমন সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, যখন সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রতিফলিত হতে থাকা মানুষের সুকুমারবৃত্তিগুলি ক্রমশই গায়েব হয়ে গিয়েছিল। হাসি-হুল্লোড়-বন্ধুতা ও প্রতিবাদমুখরতার যেসকল সাধারণ মানবিক প্রবৃত্তি গণতান্ত্রিক সমাজকাঠামোর মধ্যে ঢুকে তাকে করে তোলে প্রাণোচ্ছল, সেই সব কিছুই ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র থেকে। তার বদলে ক্রমশ নাগরিক পরিচিতিকে নানারকম প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রের সামগ্রিক ওপরিকাঠামোকে ক্রমশ সংকুচিত করে দেওয়া হয়। শ্বাস নেওয়ার গণতান্ত্রিক পরিসরটুকুও অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ধর্মীয় জাতিবাদ, ভাষিক আধিপত্য ও বর্ণবাদী বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হয় জনসমাজে।
আর তাই সুকুমার রায়ের কবিতার রামগরুড়ের ছানার মতোই হয়ে উঠেছিল জয় শ্রীরাম স্লোগানে মেতে ওঠা ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের সুরত। ভারতের শাসক ও শোষিতদের দেখে যেন-বা এতদিন সকলেরই মনে হয়েছিল:
“রামগরুড়ের ছানা, হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
‘হাসব না-না, না-না!’
সদাই মরে ত্রাসে, ধোঁয়া বলে কাশে,
হাসলে পাছে কে কে হাসে এই ভয়েতেই হাসে না।”
যেন-বা রক্তকরবীর রাজা ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এক যুগ। কিন্তু এবার সেইসব দিনের অবিরত সমাপন পর্ব জারি রয়েছে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে। রাস্তায় নেমে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি ফ্যাসিস্ট গেরুয়া শাসককে প্রতিহত করছে নবপ্রজন্মের ছাত্রজনতা। জেনারেশন জেড শুধু নয়, এমনকী জেনারেশন আলফাও নেমে পড়েছে রাস্তায়। আর তাঁদের দ্রোহের ভাষা আজ ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে পরোয়া করছে না। শ্লেষ, বিদ্রূপ, তামাশা ফিরে এসেছে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের অন্দরে। জেন-জির ভাষা, পরিভাষা ও বয়ানই ভারতীয় গণতন্ত্রের রঙিন নৃত্যমুখর কার্নিভালিস্ট রূপের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে। নিপীড়িত জনতার আশা, এই শ্লেষ ও বিদ্রূপপূর্ণ দ্রোহভাষ্যের সামনে লাঠি, পেলেট গান, টিয়ার গ্যাসের রাষ্ট্রীয় হামলা আর মামলা-মোকদ্দমা নতি স্বীকার করবে; পিছু হটতে বাধ্য হবে মোদি সরকার। ভারতীয় ফ্যাসিবাদের পতন এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
--
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক, কলকাতা, ভারত।
ইমেইল- [email protected]



